নিরীশ্বরবাদীদের ঈশ্বর ভাবনা: প্রসঙ্গ বিজ্ঞানবাদ

[লেখাটি সামহোয়্যারইন ব্লগে ২০১০ সালে লিখেছিলাম। ২০১৩ হতে অদ্যবধি আমার অ্যাকাউন্টটি ‘অজ্ঞাত কারণে’ ব্যানড রয়েছে। নাস্তিকতার পক্ষে তখনকার সময়ে লেখালেখি করা বেশকিছু ‘সামু-স্টারকে’ এখানে ‘ভদ্র মন্তব্যকারী’ হিসাবে পাবেন।]

Professor Al-Khalili reveals the science behind much of beauty and structure in the natural world and discovers that far from it being magic or an act of God, it is in fact an intrinsic part of the laws of physics. Amazingly, it turns out that the mathematics of chaos can explain how and why the universe creates exquisite order and pattern.

আমার মন্তব্য:

আচ্ছা বুঝলাম, পদার্থিক ব্যাপার-স্যাপারগুলো যতটা মনে হয় ততটা সরল নয়; অনেক বেশী জটিল। বাহ্যত ‘বিশৃংখল’ মনে হলেও প্রাকৃতিক জটিলতা বা ‘গাণিতিক বিক্ষিপ্ততা’ও এক ধরনের সূত্র। প্রফেসর জিম আল-খলিলির মতে, ‘mathematics of chaos can explain how and why the universe creates exquisite order and pattern.’বিজ্ঞানবাদের পরিচয় হিসাবে এই উদ্ধৃতিটি যথার্থ। বিজ্ঞানবাদীদের মতে, না বুঝে ঈশ্বরবাদীরা এই ‘বাহ্যত বিশৃংখলা বা অপরিমেয় জটিলতাকে’ ম্যাজিক বা ঈশ্বরের কর্ম মনে করে বিভ্রান্তির শিকার হয়।

বিজ্ঞানবাদীদের বিশ্বাস, সবকিছু প্রাকৃতিক নিয়মে ঘটে। তো, বেকুবরা ছাড়া কোনো ঈশ্বরবাদী বা নিরীশ্বরবাদীই তো এটিকে অস্বীকার করে না। সমস্যা প্রকৃতিকে নিয়ে নয়; বরং প্রকৃতির পরিচয় নিয়ে, প্রকৃতির পূর্বতন কিছু আছে কি না, তা নিয়ে। যদি বলা হয়, প্রকৃতির নিয়মের মাধ্যমে প্রকৃতিকে জানা যায়, তাহলে প্রকৃতি বলতে আমরা বুঝব প্রকৃতির নিয়মকে।

আপনি যদি মনে করেন, প্রকৃতির নিয়মাবলীর পূর্বতন কিছু নাই, প্রকৃতির নিয়মাবলী স্বয়ম্ভূ; তাহলে এক কথা। আর যদি মনে করেন, প্রকৃতির নিয়মাবলীর কোনো উৎস আছে, তাহলে আপনি ধর্মীয় অর্থে ঈশ্বর বিশ্বাসী। আর যদি মনে করেন, প্রকৃতি তথা প্রকৃতির নিয়মাবলী চিরন্তন। এগুলোর কোনো জন্ম নাই, মৃত্যুও নাই, অনন্ত। তাহলে আপনি ঈশ্বর বিশ্বাসী না হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রকৃতি বিশ্বাসী।

ঈশ্বর বিশ্বাসীরা ‘ঈশ্বর’ বলতে কী কী বুঝান বা বুঝে তার একটা তালিকা করেন। এবার আপনি একজন প্রকৃতি বিশ্বাসী বা প্রকৃতিবাদী তথা বিজ্ঞানবাদী হিসাবে ‘প্রকৃতির কী কী বৈশিষ্ট্যে বিশ্বাস করেন তার একটা তালিকা করেন। দেখবেন, আপনার প্রকৃতির সাথে ঈশ্বরের পার্থক্য মাত্র কয়েকটি, মিল প্রায় পুরোটাই।

ঈশ্বর বিশ্বাসীরা ঈশ্বরকে চেতন-সত্তা মনে করেন, নিরীশ্বরবাদীরা প্রকৃতিকে চেতন-সত্তা মনে করেন না। ঈশ্বর বিশ্বাসী হিসাবে পরিচিতরা সাধারণত ঈশ্বরকে তাঁদের ব্যক্তিজীবনের ভালোমন্দের সাথে জড়িত মনে করেন, অ-ঈশ্বরবাদীরা স্বভাবতই যেটি করেন না।

আচ্ছা, ঈশ্বর বিশ্বাসীরা কেন ঈশ্বরকে চেতন-সত্তা মনে করেন? ঈশ্বরের কার্যাবলী বা কার্যপ্রক্রিয়ার কারণে অবশ্যই। আর নিরীশ্বরবাদীদের তত্ত্ব মোতাবেক, প্রকৃতি অব্যাহতভাবে ‘সিলেকশন’ করে যাচ্ছে, কাজ করে যাচ্ছে; অথচ ‘প্রকৃতি’ কোনো সত্তা নয়, চেতন নয়! কী আশ্চর্য!

নিরীশ্বরবাদীরা বলবেন, আমরা কত কিছুই তো দেখি, যা ক্রিয়াশীল হওয়া সত্ত্বেও চেতনা সম্পন্ন সত্তা নয়। হ্যাঁ, আমরা তা দেখি। আমাদের চারপাশে, প্রকৃতিতে, আমাদের বানানো যন্ত্রে চেতনার অস্তিত্ব ছাড়া ক্রিয়াশীল বস্তু আমরা হরহামেশা দেখি। যেমন: এই কম্পিউটার, যা দিয়ে আমি লিখছি। বস্তুবাদীদের এ সংক্রান্ত তত্ত্ব হচ্ছে ফাংশানালিজম, বিহেভিয়্যারিজম ও হালজামানার কম্পিউটেশনাল থিওরি অফ মাইন্ড।

এসব বিষয়ে আলাদা আলাদাভাবে বিস্তারিত আলোচনা করার অবকাশ থাকলেও এখানে অতি সংক্ষেপে শুধু বুদ্ধিমানদের এটুকু বলতে চাই, এসব যান্ত্রিকতার পেছনে কোনো সচেতন সত্তা না থাকলেও এদেরকে যন্ত্র তথা অ-সত্তা হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য আমরা, অর্থাৎ বুদ্ধিমান ও সচেতন সত্তারা রয়েছি। তাহলে যান্ত্রিক জগতের পেছনেও কি তেমন কোনো বুদ্ধিসম্পন্ন, চেতনাসম্পন্ন সত্তা আছে? অন্তত থাকতে কোনো যৌক্তিক অসুবিধা আছে কি?

নিরীশ্বরবাদীরা বলবেন, না, এ ধরনের কোনো সত্তা আদৌ নেই। থাকলে তা দেখা যায় না কেন? তাঁদের মতে, যা পরীক্ষণে পাওয়া যায় না, তা নাই। পরীক্ষণ ও যাচাইকরণের স্বরূপ ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদীদের কী দুরাবস্থা হয়েছে, তা নিয়ে পৃথকভাবে আর একদিন লিখবো, আশা করি।

আমরা যদি ধরে নেই, ঈশ্বরের কোনো চেতন-সত্তা নাই, তাহলে কি নিরীশ্বরবাদীরা ঈশ্বরে বিশ্বাস স্থাপন করবেন? না। কারণ, তারা তো অলরেডি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেনই! যাকে তারা প্রকৃতি বলে থাকেন।

প্রকৃতি নামের এই বস্তু-ঈশ্বরকে আরাধনা করার দরকার নাই, অস্বীকার করারও পথ নাই। তাদের এই বস্তু-ঈশ্বর এমন এক ‘দার্শনিক খোদা’ যিনি ব্যক্তি মানুষের ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবনে ‘হস্তক্ষেপ’ করেন না। এখানেই হলো ঈশ্বরবাদীদের সাথে কথিত নিরীশ্বরবাদীদের বিরোধ।

নিরীশ্বরবাদীরা মূলত ব্যক্তিগত জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট ঈশ্বরকে (যাকে আমরা ব্যক্তি-ঈশ্বর বলতে পারি) অস্বীকার করে, আর ভাবতে থাকে তারা ঈশ্বর বিশ্বাস হতে মুক্ত।

যিনিই কোনো না কোনো পরমে বিশ্বাস করেন, তিনিই আস্তিক। হতে পারে, তিনি প্রচলিত ধর্মীয় অর্থে ঈশ্বর বিশ্বাসী নন। প্রতিটি মানুষ জন্মগতভাবে ঈশ্বর বিশ্বাসী। হতে পারে ঈশ্বর, খোদা ইত্যাদি ধর্মীয় প্রতিশব্দ ব্যবহার না করে প্রকৃতি, অনন্ত (যেমন অনন্ত বস্তু), সীমাহীন (যেমন সীমাহীন সময়) ইত্যাদি ব্যবহারে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

একজন নাস্তিক বলেছেন, আচ্ছা, আমরা যেসব স্বতঃসিদ্ধকে মানি,  আপনার মতে, সেগুলোকে কি আমরা ঈশ্বর হিসাবে মানি? উদাহরণ হিসাবে তিনি ইউক্লিডের স্বতঃসিদ্ধসমূহের কথা বলেছিলেন। উনাকে জবাব দিয়েছিলাম, না, স্বতঃসিদ্ধ জাতীয় ব্যাপারগুলোকে আমরা ঈশ্বর হিসাবে মানি না, আপনারা মানেন হিসাবে দাবিও করি না। সেগুলোকে আমরা-আপনারা সবাই ঈশ্বরের কাজ বা নীতি (Godly) হিসাবে মানি। কারণ, সেগুলো সংশ্লিষ্ট সকল যুক্তি ও প্রমাণের ‘উৎস’। আপনারা ঈশ্বরের কাজকে স্বীকার করেন, কিন্তু ঈশ্বরকে অস্বীকার করেন। অস্বীকার করার কোনো পথ না থাকায় আপনারা ঈশ্বরের কাজকে স্বীকার করেন। কিন্তু কর্তাকে স্বীকার করেন না, যখন যখন সম্ভব।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন (ID) নিয়ে বন্যা আহমেদের ‘বিবর্তনের পথ ধরে’ থেকে শুরু করে স্যাম হ্যরিসন, রিচার্ড ডকিন্সসহ সব নামকরা নিরীশ্বরবাদীদের লেখা ও ভিডিও আমি কালেকশন করেছি, পড়েছি, পড়ছি ও দেখছি। ইনাদের বুঝের সমস্যা কোথায়, উপস্থাপিত যুক্তির দুর্বলতা কোথায় – এসব নিয়েও অদূর ভবিষ্যতে লেখার আশা রাখি।

প্রকৃতিই হলো বিজ্ঞানবাদী তথা নাস্তিকদের ঈশ্বর। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে প্রকৃতি হতে আমরা সব পেতে পারি। প্রকৃতির ঊর্ধ্বে আর কিছু নাই। আস্তিকদের ঈশ্বরের মতো প্রকৃতি তথা ‘বস্তু’ হলো স্বয়ম্ভূ। প্রকৃতির এই নাস্তিক্যবাদী সর্বময়তা তাদের দৃষ্টিতে স্বতঃপ্রমাণিত (অবভিয়াস)।

ভালো, তবে একজন ঈশ্বরবাদী মনে করবে, প্রকৃতির এই প্রকৃতি ও ক্ষমতার উৎস হলো ঈশ্বর। প্রকৃতিকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। অবশ্য এক বর্ণনা মতে, ঈশ্বর প্রকৃতিতে প্রকাশিত। বিশেষ করে সময়ের সাথে আল্লাহ নিজেকে একাত্ম করে বলেছেন, তোমরা কাল বা সময়কে গালি দিও না; আমিই কাল। (হাদীসটি সহীহ। এটি হাদীসে কুদসী)

উপরের আলোচনায় মনে হতে পারে, জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক থেকে নাস্তিকতা একটা বিরোধপূর্ণ মতবাদ। তারা এমন বস্তুতে বিশ্বাস করে, যা সকল অবস্তুগত বৈশিষ্ট্যাবলী ধারণ করে। তারা এমন প্রকৃতিতে বিশ্বাস করে, যা জ্ঞানতাত্ত্বিক ঈশ্বরের সকল গুণাবলীর অধিকারী।

এই যাচাই ও বিজ্ঞান সম্পর্কিত যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদীদের প্রসঙ্গ অন্য কোনো পোস্টে আলোচনা করার আশা করছি।

বাই দ্য ওয়ে, বিজ্ঞানবাদ বা বিজ্ঞানবাদিতার ইংরেজি টার্ম কী হতে পারে? আই অ্যাম নট শিওর।

[আপডেট: এ বিষয়ে অতি সম্প্রতি সংক্ষেপে একটি লেখা পাবলিশ করেছি। এতে বিজ্ঞানবাদের ইংরেজি করা হয়েছে Sciencism হিসেবে। বিজ্ঞানবাদ কথাটার প্রচলিত ইংরেজি টার্ম হলো Scientism। সায়েন্টিজমের অসুবিধা হলো, যিনি সায়েন্টিজমের অনুসারী, তাকে কী বলা হবে? যদি সায়েন্টিস্ট বলা হয়, তা ভুল হবে। যিনি সায়েন্স চর্চা করেন, তাকে সায়েন্টিস্ট বলা হয়। তাই বিজ্ঞানবাদ বুঝানোর জন্য সায়েন্টিজম নয়, সায়েন্সিজমই উপযুক্ত পরিভাষা।]

সামহোয়্যারইন ব্লগে মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

১. স্তব্ধতা’ বলেছেন: আইনস্টাইনের গড সম্পর্কে জানেন হয়তোবা। তবুও একটু বলি তারই দেয়া বক্তব্য:

”To sense that behind anything that can be experienced there is something that our mind cannot grasp and whose beauty and sublimity reaches us only indirectly and as a feeble reflection, this is religiousness. In this sense I am religious.”

এই সেন্সে আমিও রিলিজিয়াস উইথ দ্যা রিজার্ভেশন দ্যাট cannot grasp ডাজ নট মিন forever ungraspable. এখন এই ঈশ্বর কিন্তু আমার প্রতিদিনের কাজকর্ম দেখতে আসে না, আমার জন্য স্বর্গ নরক তৈরী করে রাখে নাই, পদে পদে আমারে শাস্তি দেবার উদ্দেশ্যে মোচে তা দিতেছে না।এখন এই ঈশ্বর এর সাথে আস্তিকের ঈশ্বরের মিল অন্বেষণ করাটা বোকামী নয় কি?

লেখক বলেছেন: পারভেজ আলমের নৈতিকতা সংক্রান্ত পোস্টে আপনার জোরালো অংশগ্রহণ দেখেছি।

হ্যাঁ, আইনস্টাইনিয়ান ঈশ্বর ধর্মীয় অর্থে ঈশ্বর বিশ্বাসীদের ঈশ্বর নন। আলাদা। আমার পোস্টেরও অন্যতম প্রতিপাদ্য এটি।

ব্যক্তি জীবনের সংশ্লিষ্টতাকে বাদ রেখে বিবেচনা করলে, অর্থাৎ ঈশ্বরের শুধু অস্তিত্ব নিয়ে ভাবলে আমরা সবাই আস্তিক অর্থাৎ ঈশ্বর বিশ্বাসী।

কোনো অতিবর্তী শক্তি তথা পরম সত্তার অস্তিত্বকে স্বীকার করে নিলে ব্যক্তি জীবনের সাথে সেই সত্তার সম্পর্ক আরোপ সঠিক কিনা – সেটি পরবর্তী প্রসঙ্গ।

জ্ঞানের কোনো শেষ নাই। যতই দেখি ততই দিগন্ত প্রসারিত হয়। নীতিগতভাবে জ্ঞানের কোনো শেষ থাকা উচিত বা কাম্য নয়। তাহলে ‘নাই’ হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর থাকবে না।

ঈশ্বর বিশ্বাসীরা প্রায়শই না বুঝে, মনের জোরে, সমাজের তালে ঈশ্বর বিশ্বাসী হয়ে থাকে। বুঝতেই পারছেন, আমি ব্যতিক্রমদের অন্তর্ভুক্ত।

তবে নিরীশ্বরবাদীরাও ইদানীং কিছুটা এ রকম আচরণ করছে, এথিইজমকে কনজিউমারিজমের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে।

এসব জ্ঞানগর্ভ বিষয়ে মুক্ত আলোচনা হতে পারে। আমার খুব আগ্রহ। এজন্য ব্লগে দেয়া আমার সকল পরিচয় অরিজিনাল। আই এপ্রিশিয়েইট এ্যনিওয়ান টু কনটাক্ট উইথ মি পারসোনালি।

আমার এক সহকর্মী ‘স্বাশ্রয় ভাবনা’ নামের একটা বই/ম্যগাজিন আমাকে দিয়েছিলেন। তিনি নাস্তিক। আমি সেটি পড়ার পরে তাঁর সাথে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলাম। প্রসংগক্রমে বললাম, এই লেখার (‘ঈশ্বর ভাবনা’) বিষয়বস্তু আমার ধারণা সমর্থন করেছে। সম্ভবত এ কথা বলাতে সেই সহকর্মী আজ অব্দি এ বিষয়ে আমার সাথে বসেনি। আমি নাস্তিকতা নিয়ে কথা বলতে চাই, এ ছাড়া আমাকে এড়িয়ে চলার আর কোনো কারণ দেখি না। আস্তিকদের স্বভাবগত অসহিষ্ণুতা নাস্তিকদেরও পেয়ে বসেছে!

আস্তিক-নাস্তিক উভয় পক্ষের অধিকাংশ লোক ব্লগের নিরাপদ অবস্থান থেকে পরস্পরকে ঘায়েল করতে ব্যস্ত থাকে। আমি চাই সরাসরি খোলামেলা আলোচনা।

আমরা যদি কোনদিক উত্তর, আর কোনদিক দক্ষিণ – সে সম্পর্কে পূর্ণ মতৈক্যে না পৌঁছতে পারি, তাহলে এই ভবন সংলগ্ন কোনো পাহাড় আছে কিনা, থাকলে তা কোনদিকে – এই জিজ্ঞাসা বা বিতর্কের কোনো অবসান হবে না।

আসলে ঈশ্বর বলতে কী বোঝায় – ঈশ্বরবাদী ও নিরীশ্বরবাদী উভয় শিবিরে এ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক মতবিরোধ ও বিভ্রান্তি রয়েছে।

ধন্যবাদ, এ পর্যন্তকার একমাত্র মন্তব্যটি প্রদানের জন্য।

২. স্তব্ধতা’ বলেছেন: সম্ভবত আপনি ইংরেজি দিয়ে শুরু করায় অনেকে এড়িয়ে গিয়েছেন পোস্টটি। ইংরেজি জানা থাকা সত্ত্বেও বাংলা ব্লগে ইংরেজির ব্যবহার নিয়ে এলার্জি থাকার কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে।

আপনার ব্যতিক্রমী আস্তিকের ধারণাটি ভালো লাগলো। দৈনন্দিন জীবনে ব্যক্তির সাথে আস্তিকের ঈশ্বরের সম্পর্ক আরোপ প্রয়োজন কি না বা এটা কি আদৌ আরোপ করার মতো কোনো বিষয়? ব্যক্তির বিশ্বাসের সাথেই বোধহয় ঈশ্বর স্ব-আরোপিত।

আস্তিক-নাস্তিকের অসহিষ্ণুতার বিষয়ে আমিও একমত।

তবে, আলোচনার একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন: মানুষের অনুসন্ধিৎসু মনের কারণে ঈশ্বর ধারণাটির অস্তিত্বের প্রশ্ন মানুষ আজীবন করে যাবে। তাই ধর্ম হাজারো চেষ্টা করেও ‘নাস্তিকতা’ ধারণাটি রদ করতে পারবে না। কী হয়, কেন হয় – এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই বিভিন্ন শাখায় সমাজের আজকের এই উৎকর্ষ সাধন হয়েছে।

আবার প্রকৃতির কাছে মানুষের যে অসহায় আত্মসমর্পণের প্রয়োজন পড়ে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুহূর্তগুলোতে নিজের অসহায়ত্ব নিয়ে কোনো কিছু আঁকড়ে ধরার যে আত্মিক তাড়না থাকে, সেই কারণেই নাস্তিকরা দুনিয়া জোড়া বিস্তৃতি লাভ করলেও ধর্ম ও ঈশ্বর অনাদিকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। সাধারণ মানুষের একটা খড় বা কুঁটো দরকার হয় বাঁচার জন্য। সেই খড় বা কুঁটোটাই মানুষের মনের ঈশ্বর।

লেখক বলেছেন: মানুষের অসহায়ত্ব ঈশ্বরের ধারণা সৃষ্টি করেছে, এটি অসত্য বলে মনে করি। মানুষের সীমাবদ্ধতা (যা সকল ক্ষেত্রেই সুস্পষ্ট) মানুষকে অসীমের ধারণায় প্রলুদ্ধ করেছে। ঈশ্বর হলো অসীমের প্রতীক বা প্রতিনিধি।

ইসলামী মতাদর্শে নিরীশ্বরের ধারণা পোষণ করার সুযোগ ঈশ্বরই করে দিয়েছেন। পাশাপাশি ঈশ্বরকে খুঁজে নিতে বিভিন্ন নিদর্শনের কথাও বলা হয়েছে। আমার অন্য পোস্টে বলেছিলাম, ঈশ্বরও চান না মানুষ না বুঝে ঈশ্বরে বিশ্বাস করুক। আমি প্রচলিত ধর্মবাদ ও নাস্তিক্যবাদ – উভয় অবস্থানকে অগ্রহণযোগ্য মনে করি।

ইতোপূর্বে দেয়া বেশ কয়েকটি পোস্টে আমার এই অবস্থানকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি। যার মূল কথা হলো, ঈশ্বর আছেনই এমন কোনো প্রমাণ নাই। আবার মূলত নাই, এমন কোনো প্রমাণও নাই। উভয়পক্ষে যা আছে, তা হলো যুক্তি। ব্যক্তির জ্ঞানগত অবস্থা নির্ধারণ করে, সে কোন কোন যুক্তিকে প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করবে।

যতটা মনে করা হয়, প্রমাণ ততটা লভ্য নয়। অন্ধ-প্রমাণ হিসাবে অনেক প্রমাণ আছে। প্রমাণ হচ্ছে যুক্তির যে ধারাকে আমি পছন্দ করছি তার গ্রহণযোগ্যতার অজুহাত মাত্র। প্রমাণ হচ্ছে ইউটোপিয়া বলতে যা বোঝায় তা।

সব প্রমাণই আপাত প্রমাণ। চূড়ান্ত অর্থে কোনো প্রমাণ নাই। চূড়ান্ত প্রমাণ যদি থাকতে হয় তাহলে ঈশ্বর বলতে ধর্মবাদীরা যা বোঝান, সে রকম কোনো কিছুই এর একমাত্র দাবিদার হতে পারে।

অবশ্য, ঈশ্বর বলেননি, ঈশ্বরকে ‘ঈশ্বর’ বা এ ধরনের কোনো নামেই (যেমন– খোদা, ব্রহ্ম, গড ইত্যাদি) ডাকতে হবে। ঈশ্বর বলতে কতিপয় গুণাবলীকে বোঝায়। যেমন, অসীম, পরম, স্বয়ম্ভূ ইত্যাদি।

আস্তিকতা-নাস্তিকতার বিষয়টি ব্যক্তিগত জীবনের সাথে সম্পর্কিত ঈশ্বর তথা ব্যক্তি-ঈশ্বরের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতির উপর নির্ভর করে। জ্ঞানগত অর্থে ঈশ্বরকে সবাই মানে। মানতে বাধ্য। কারণ, আমরা নিজেরা সসীম, আপতিক ও সৃষ্ট বা উদ্ভূত। অথচ, আমরা অসীম, পরম, স্বয়ম্ভূ ইত্যাদিকে অস্বীকার করতে পারি না।

কেউ কেউ বলে ‘বস্তু’ হলো এ সবের ধারক, ধর্মবাদীরা বলে ঈশ্বর। তাই ‘বস্তু’ই হলো নাস্তিকের ঈশ্বর। যেমন করে বুড্ডিস্টরা নিরীশ্বরের কথা বলে বুদ্ধকে ঈশ্বরের স্থানে বসিয়েছে।

এ পর্যন্ত একমাত্র মন্তব্যকারী হিসাবে আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

৩. স্তব্ধতা’ বলেছেন: মানুষের অসহায়ত্ব ঈশ্বরের ধারণা সৃষ্টি করেছে, এটি অসত্য বলে মনে করি।

আমি মূলত সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কথাটি বলেছি। তবু আপনার বক্তব্যটিকে যদি একটু ভাঙ্গি, তাহলে বিষয়টি একই দাঁড়ায়। আপনি বলেছেন, মানুষের সীমাবদ্ধতাই (যা সকল ক্ষেত্রেই সুস্পষ্ট) মানুষকে অসীমের ধারণায় প্রলুদ্ধ করেছে। ঈশ্বর হলো অসীমের প্রতীক বা প্রতিনিধি।

এখন, মানুষ কেন অসীমের ধারণায় প্রলুব্ধ হলো? অর্থনীতিতে উপযোগ বা ইউটিলিটি বলে যে বিষয়টি আছে, তার আশ্রয়ে যদি যাই, তাহলে প্রশ্ন আসে অসীমতায় কী উপযোগিতা মানুষ খুঁজে পেলো যে, তার প্রতি মানুষ প্রলব্ধ হলো? ‘আত্মসমর্পণ’। এখন দেখুন, আমার বলা কথাটির সাথে সামঞ্জস্য পাওয়া যায় কিনা। আবার অর্থনীতির ল’ অফ ডিমিনিসং মার্জিনাল ইউটিলিটির মতো এই ‘অসীমতার’ ইউটিলিটিও কিন্তু মানুষের কাছে বাড়ে কমে। এটি আর ব্যখ্যা করলাম না, আপনি বুঝবেন।

এছাড়া আর যা বলেছেন, তার সাথে যদিও একমত, তবুও আরেকবার আপনার বলা বক্তব্য থেকে কোট করে আমার বক্তব্যটিই পুনরাবৃত্তি করছি, ঈশ্বর তথা ব্যক্তিঈশ্বরের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতির উপর নির্ভর করে। জ্ঞানগত অর্থে ঈশ্বরকে সবাই মানে। মানতে বাধ্য। কারণ, আমরা নিজেরা সসীম, আপতিক ও সৃষ্ট  বা উদ্ভূত। অথচ, আমরা অসীম, পরম, স্বয়ম্ভূ ইত্যাদিকে অস্বীকার করতে পারি না।

আমি আমার প্রথম বক্তব্যেই বলেছি, এই অসীমতার ক্ষেত্রে ঈশ্বরকে মেনে নেয়ার যে তরিকা, সে আমার আইনস্টাইনের তরিকা। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমি আস্তিক। কিন্তু আমি সেই আস্তিক, যে গতানুগতিক ধর্মগুলোর বাইরে দাঁড়িয়ে ঈশ্বরকে খোঁজায় মগ্ন।

ধন্যবাদ দিচ্ছি না।আপনার সাথে আলোচনা সবসময়ই সুখকর।

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। ব্লগে আমি যখন থেকে ঢুকলাম, মাস কয়েক আগে, দেখলাম, আস্তিকতা-নাস্তিকতা বিষয়ক তুমুল বিতর্ক। যাহোক, খেয়াল করলাম নৈর্বক্তিক ঈশ্বরের ধারণা (আমার ভাষায়, দার্শনিক ঈশ্বর বা পরম অর্থে ঈশ্বর) এখানে আগাগোড়া অনুপস্থিত।

আচ্ছা, ব্লগে আমি তো নতুন। আপনারা পুরনো এবং এ বিষয়ে বাহাসে বেশ অভিজ্ঞ। জ্ঞানগত ঈশ্বর ও ব্যক্তি-ঈশ্বরের এই বিভাজন আমার আগে কেউ কি দেখিয়েছে? জানি না বলেই, নিছক কৌতুহল থেকে প্রশ্নটা করলাম।

এ বিষয়ে আমার আর পোস্ট দেয়ার দরকার হবে না। কারণ, আমি চাচ্ছিলাম জ্ঞানগত ঈশ্বরের স্বীকৃতি। সম্ভবত সেটি অর্জিত হয়েছে। পরবর্তীতে কোনো প্রাসঙ্গিক বা ভিন্ন বিষয়ে লিখবো, আশা করি।

সামনাসামনি কথা বলতে পারলে হয়তোবা আমরা পরস্পরের চিন্তনকে পরিবর্তন বা প্রভাবিত করতে পারতাম। খুব ভালো লাগছে আপনার সুন্দর মন্তব্য পড়ে।

৪. পারভেজ আলম বলেছেন: আপনি জানেন, যতদুর পর্যন্ত বাস্তব জ্ঞান দিয়ে আলোচনা করা যায় ততদুর পর্যন্ত আমি বাস্তব জ্ঞান থেকে সমস্যার সমাধান খুঁজতে আগ্রহী। অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তব জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা এড়িয়ে গিয়ে একেবারে যৌক্তিক তত্ত্ব আলোচনায় কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয়। আস্তিক-নাস্তিক বিতর্কে ইদানিং এইটা সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করি।

প্রথমেই বলি, আপনার পোস্টটা বেশ সুখপাঠ্য হয়েছে। ঈশ্বরবাদীদের সাথে নিরিশ্বরবাদীদের তাত্ত্বিক পার্থক্য আপনি টানতে চেয়েছেন মূলত মানব জীবনে ঈশ্বর বা প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক ধারণা দিয়ে। থিওরেটিকালী আপনার পার্থক্যকে অস্বিকার করছি না, কিন্তু বাস্তবতা এরচেয়ে অনেক দিক থেকেই ভিন্ন। দুইটা পয়েন্টে বলি।

১। ঈশ্বরবাদীর ঈশ্বর বা প্রকৃতি সর্বক্ষেত্রেই এক নয়। এই কারণেই আস্তিক বা ঈশ্বরবাদীদের ধর্মও এক নয়। যেমন ইসলামের কথাই ধরা যাক। শুধুমাত্র সচেতন ঈশ্বর বা সচেতন প্রকৃতি বললেই ইসলামের ঈশ্বরকে ব্যাখ্যা করা যায় না। ইসলামের ঈশ্বর সাত আসমানের ওপর আরশে আসীন একজন ব্যক্তি, যিনি কুল বললেই দুনিয়া তৈরি হয়ে যায়। অথচ যার অনেক চাকর বাকর সদৃশ্ ফেরেশতা বাহিনী আছে, যারা তার ফুট ফরমায়েশ খাটে। যিনি মানুষের উপাসনা কামনা করেন। সেই উপাসনা পেলে খুশি হয়ে বেহেশত নসিব করেন। আর উপাসনা না পেলে রাগে ফেটে পরেন এবং দোযখের আগুনে অনন্তকাল দগ্ধ করেন।

বেশিরভাগ মুসলিম আস্তিকের জীবনেই ঈশ্বর স্রেফ কোনো সচেতন প্রকৃতি বা সত্তা নয়। বরং এক মহা মানবিক সত্তা, যিনি সম্রাটের মতো দুনিয়া শাসন করেন। যার রাগ, ভালোবাসা ইত্যাদি মানবিক গুণ আছে। আবার আপনার মতো দর্শনপ্রেমীর কাছে ঈশ্বর মোটেও এইরকম কিছু নয়। সুতরাং আপনি এইখানে তাত্ত্বিক আলোচনায় ঈশ্বরবাদীর ঈশ্বরের সাথে নিরিশ্বরবাদীর প্রকৃতির যেই পার্থক্য টেনেছেন, সেই পার্থক্য আপনার ঈশ্বরের সাথে আমার প্রকৃতির হতে পারে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ট ঈশ্বরবাদীর ঈশ্বরের সাথে আমার প্রকৃতির পার্থক্যের ক্ষেত্রে উপযোগী হবে না।

ইবনে তুফায়েলের ‘হাই ইবনে ইয়াকজান’ সম্বন্ধে জানেন তো। হাই দর্শন চর্চার মাধ্যমে নির্জন দ্বীপে বসে বসে ঈশ্বর আর জগতের রহস্য বুঝতে পারলো। আর আফজাল বুঝল শাস্ত্র চর্চা করে। কিন্তু তারা সাধারণ মানুষকে বোঝাতে পারল না কিছুই। শেষ পর্যন্ত ইবনে তুফায়লেরে সিদ্ধান্ত, সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব বোঝা সম্ভব নয়, ধর্মীয় রূপক আর কল্পকাহিনীই তাদের জন্য কাম্য। আমি ইবনে তুফায়েলের এই মত পুরাপুরি সমর্থন করি না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ট ঈশ্বরবাদীর ঈশ্বরচিন্তাই কল্পকাহিনী নির্ভর, দর্শন নির্ভর নয়। সুতরাং আপনার এই থিওরেটিকাল পার্থক্য বাস্তব জীবনের পূর্ণাঙ্গ পার্থক্যকে ধরতে পারছে না।

২। ঈশ্বরবাদীর মনে ঈশ্বরের একটা নৈতিক অবয়ব আছে। সেই অবয়বের কাছেই সে তার নৈতিক জীবন সমর্পণ করে বা করতে যায়। কিংবা ঐ অবয়বকে কেন্দ্র করে তার অপরাধবোধ, ট্যাবু ইত্যাদি ঘুরপাক খায়। আপনি বলেছেন, নিরিশ্বরবাদীরা মনে করে তাদের জীবনে প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণ নাই। বাস্তবতা হলো, একজন ঈশ্বরবিশ্বাসীর মনে ঈশ্বরের এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় কিছু বাস্তব সত্তা বা বস্তু যেমন নবি-রাসুল, ধর্ম পুস্তক, মসজিদ-মন্দির, মোল্লা-পুরুত ইত্যাদির মাধ্যমে। তেমনি একজন নিরিশ্বরবাদীর মনেও তার জীবনের নৈতিক শৃঙ্খলার অবয়ব তৈরি হয় কোনো বিশেষ দার্শনিক, কোনো পুস্তক, সংগঠন, রাজনৈতিক নেতা, রাজনৈতিক মতবাদ, সংগঠনের নেতা ইত্যাদির মাধ্যমে।

বস্তুত ঈশ্বরবাদী এবং নিরিশ্বরবাদীর বর্তমান সমস্যা এক জায়গাতেই। আর সেইটা হইল নৈতিক শৃঙ্খলার দ্রুত পরিবর্তনশীলতা, যা পুঁজিবাদী দুনিয়ার নিয়ন্ত্রকদের স্বার্থে সহজ স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় সব মানুষের মনে যেই নৈতিক অবয়ব থাকার কথা তা দ্রুত ভেঙে পড়ছে। একসময় এই নৈতিক অবয়ব নিয়ন্ত্রণ করতো রাজা এবং পুরোহিত নির্ভর ক্ষমতা শৃঙ্খলা, ব্যবসায়ীদের অবস্থান ছিল রাজা এবং পুরোহিতের নিচে। ব্যবসায়ীরা রাজা এবং পুরোহিতকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সবচেয়ে উচু স্থানটায় নিজেদের অধিষ্ঠিত করেছে। ফলে নৈতিকতার অবয়ব তারা নিজেদের স্বার্থে নিজেদের মতো ভেঙেচূরে রোজ রোজ পরিবর্তন করছে। এই অবস্থায় থিওরেটিকাল ঈশ্বর আর বাস্তব প্রকৃতি এ দুইয়ের প্রতিই মানুষের সম্মান আর ভালোবাসার ব্যাপক ঘাটতি চোখে পড়ে এবং এই দুইয়ের অস্তিত্বই এখন হুমকির সম্মুখীন। তবে মহারাজা সদৃশ ঈশ্বরের শক্তি এবং ক্ষমতা বাড়ছে বই কমছে না। কারণ হাই ইবনে ইয়াকজানের আম জনতাদের শোষণ করা সহজ। তাই মহারাজা ঈশ্বরের অস্তিত্বকে বাড়তে দেয়া যায়।

লেখক বলেছেন: তাহলে শেষ পর্যন্ত আপনাকে পাওয়া গেল! বেশ ভালো লাগছে আপনার সুন্দর মন্তব্য পড়ে।

আসলে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সমস্যা নয়। সমস্যা বা বিরোধ হলো ব্যক্তিজীবনের সংশ্লিষ্টতা। আরো স্পষ্ট করে বললে, ধর্ম নামক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি, ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে শোষণ ও ধর্ম-ব্যবসা।

আমি চাই, মানুষ মানবিকতায় ভাস্বর হয়ে উঠুক। লক্ষ্য করবেন, আমি বলছি না মানুষ আলোকিত জীবনযাপন করুক। কারণ, মানবিকতাই মূলত আলো।

ঈশ্বর মানুষের সৃষ্টি নয়, তবে অতি অবশ্যই মানুষের আবিষ্কার।

মানবিক জীবনযাপনের জন্য নাস্তিকতা অপরিহার্য নয়। নিরীশ্বরবাদের আশ্রয় হিসাবে বস্তুবাদ, বস্তুবাদের পরিণতি হিসাবে বিজ্ঞানবাদের উদ্ভব।

পুনর্দ্রষ্টব্য: ধর্মের আশ্রয় ঈশ্বর, আর বিজ্ঞানবাদ তথা নিরীশ্বরবাদের আশ্রয় বস্তু। যদি আমরা কনসিস্টেন্টলি যুক্তি চর্চা করি তবে আমাদের দূরত্ব অনেক কমে আসবে।

আপনাকে পেয়ে, সুন্দর মন্তব্য পেয়ে আহ্লাদিত বোধ করছি। ধন্যবাদ।

আমি এ মুহূর্তে আমার গ্রামের বাড়িতে। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দের তালে লিখছি।

৫. সজীব আকিব বলেছেন: প্রকৃতির নিয়মাবলীর পূর্বতন কিছু থাকলে সেটা ঈশ্বর হবে বলে আপনাকে কে বলল? ঈশ্বর বলতে কিছু আছে, তা প্রমাণ করতে হবে যারা ঈশ্বরবাদী বা ঈশ্বরের অস্তিত্বের দাবি করেন তাদেরকে।

আপনাকে কিছু বই দিলাম, পড়ে দেখুন- Atheism – The Case Against God -George Smith, The.God.Delusion.- Richard.Dawkins

আর, হ্যা, লেখতে থাকেন, ভাবতে থাকেন একদম মুক্তমন নিয়ে। আশা করি সবকিছু পরিস্কার হয়ে যাবে। আমার কিছু লেখা আছে ঈশ্বর বিষয়ে, সময় পেলে পড়বেন। একমাত্র + টি দিলাম। ধন্যবাদ।

লেখক বলেছেন: মুক্তমন সম্পর্কে আপনার ধারণা আমার কাছে পরিষ্কার নয়। আমি রেগুলার মুক্তমনা ডট কম ভিজিট করি। মন্তব্য/পোস্ট লিখি না। কারণ, যারা মনে করে মুক্তমনা হতে হলে স্বীয় ধ্যান-ধারণাকে ত্যাগ করে জ্ঞানগতভাবে দিগম্বর হতে হবে, সে রকম মুক্তমনা হওয়া আমার সাধ্যাতীত।

হ্যাঁ, আমি নিজেকে অ-মুক্তমনা মনে করি না। আমার চরম বিরোধীও আমার সম্পর্কে এ রকম বলবে না। কারণ, তারা আমাকে জানেন। আপনার সাথে আমার ইন্টারেকশন সবে শুরু হলো। তবে, নেটে আমার লেখাগুলো পড়তে পারেন যদি সময় থাকে।

মুক্তমনা হলেন সেই মানুষ, যিনি খোলাখুলি নিজের বিশ্বাস এবং এর অন্তর্নিহিত যুক্তি বা কারণ সরাসরি বলে দেন। দেখি না কি বলে জাতীয় কৌশল অবলম্বন করেন না।

মুক্তমনা হতে হলে যদি ঈশ্বর বিশ্বাস ত্যাগ করা বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে আমার পোস্টে রেসপন্স করা মূল্যবান সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছু নয়। আমার ঈশ্বর বিশ্বাস আমার জ্ঞানগত উপসংহার।

আমি ছোটবেলা হতে কখনো ধার্মিক ছিলাম না। আমার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা কোনো দলের প্রভাবে আমি ‘ধর্মপন্থী’ হইনি। ভালো রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও জানার জন্য বিজ্ঞান ছেড়ে আমি দর্শন পড়েছি।

আমার বিশ্বাসই হলো আমার জ্ঞান। আমি চবিতে সমকালীন জ্ঞানতত্ত্ব পড়াই। হালনাগাদের কিছু টেক্সট। বাংলাদেশে যারা জ্ঞানতত্ত্ব নিয়ে কাজ করে তাঁরা সংখ্যায় খুব কম। আমাদের এখানে আমিই একমাত্র।

এ ধরনের আত্মপ্রচারমূলক কথা স্বভাববিরুদ্ধ হলেও এ জন্য বললাম যে, সাধারণভাবে সবাই মনে করে– বিশ্বাস এক জিনিস, আর জ্ঞান তারচেয়ে ভিন্ন জিনিস। বিশ্বাসের কোনো প্রমাণ থাকে না, যা জ্ঞানের ক্ষেত্রে থাকে। কথাটি কেবলমাত্র অন্ধবিশ্বাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

কিন্তু জ্ঞান যে মূলত বিশ্বাস, তা কি লোকেরা জানে? মানে?

জ্ঞান হলো যাচাইকৃত সত্য বিশ্বাস। সকল বিশ্বাস জ্ঞান নয়। অথচ, জ্ঞানমাত্রই বিশ্বাস, এমন বিশ্বাস যা যাচাইকৃত (আসলে হবে যাচাইযোগ্য) ও সত্য। ফর এপিসটোমোলজিক্যাল এনালাইসিস, এম্পিরিক্যাল নলেজ ইজ অলসো কলড এজ এম্পিরিক্যাল বিলিফস, ইউ নো…

আপনার লিংকগুলো দেখেছি। এ সবের ফ্লগুলো নিয়ে কখনো লিখলে আপনাকে স্মরণ করবো।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৬. পারভেজ আলম বলেছেন: আমি দ্বিতীয় প্লাসটা দিলাম। তবে আপনে ব্লগে অনেক কম একটিভ। আর অন্যদের পোস্টেও মন্তব্য করেন কম। এই কারণে আপনাকে ট্রাক করা কঠিন হয়ে যায়।

লেখক বলেছেন: সামগ্রিকভাবে আমার ব্লগীয় অভিজ্ঞতা সুখকর। এবং সেটি স্ব-পন্থী ও বিরোধী উভয় দলের কারণে।

আমি চাই এক্সচেঞ্জ অব ভিউজ। থ্যঙ্কস এ লট…

৭. সজীব আকিব বলেছেন: না, মুক্তমনায় লেখতে হলে বা মন্তব্য করতে হলে নাস্তিক হতে হয় না। অনেক গোঁড়া ধর্মবাদীও মন্তব্য করে থাকেন। আশা করি এখন থেকে নিয়মিত মন্তব্য করবেন। আর কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলতে পারেন, আপনার হয়ে চেষ্টা করে দেখব। মুক্তমনার ই-বই গুলো সময় পেলে পড়বেন।

এই লেখায় ঈশ্বরের সংজ্ঞা পরিষ্কার হল না। আরেকটু যদি বলতেন।

লেখক বলেছেন: ঈশ্বর হলো পরমসত্তা, এবসলিউট বিয়িং, যিনি অতীবর্তী বা বিয়ন্ডে।

জ্ঞানতাত্ত্বিক ঈশ্বরের ধারণার উপরে ব্যক্তি-ঈশ্বরের ধারণা নির্ভরশীল বা প্রতিষ্ঠিত। অথবা বলা যায় – জ্ঞানতাত্ত্বিক ঈশ্বরের ধারণার প্রায়োগিক দিক বা সম্প্রসারিত রূপ হলো ব্যক্তি-ঈশ্বর। ব্যক্তি-ঈশ্বর মানে মানুষের ব্যক্তিগত, বাস্তব বা ব্যবহারিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট ঈশ্বর।

ঈশ্বর-সমস্যার মূল অংশটা হলো ব্যক্তি-ঈশ্বর সংশ্লিষ্ট। যুগে যুগে ধর্মের নামে ঈশ্বরের ধারণার অপব্যবহার করা হয়েছে। এখনও হচ্ছে।

ধর্মহীন ঈশ্বরবাদী বলতে মানুষ সাধারণত যা বোঝে (যেমন নাস্তিক্যবাদ), আমি সেটার পক্ষে নই। আবার প্রচলিত ধর্মবাদের পক্ষেও যে নই সেটি তো ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে বলেছি। আমি মানব সমাজকে প্রকৃতির অনুরূপ তথা স্বভাবগত অবস্থার সাথে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখতে চাই। এটি আমার আদর্শ।

দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ যদি একটা বৈজ্ঞানিক মতবাদ হয়ে থাকে, এর সামাজিক বা প্রায়োগিক দিক হলো ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। অর্থাৎ বিজ্ঞানের সামাজিক প্রয়োগ তথা সমাজবিজ্ঞান।

অনুরূপভাবে, ঈশ্বরের ধারণা যদি আমরা জ্ঞানগতভাবে মানি বা গ্রহণ করি, তাহলে আমাদের আদর্শবাদেও এই ধারণার প্রতিফলন বা সম্পৃক্ততা থাকা দরকার। আমি এটি মনে করি।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

লেখক বলেছেন: ‘ঈশ্বর বলতে কিছু আছে, তা প্রমাণ করতে হবে যারা ঈশ্বরবাদী বা ঈশ্বরের অস্তিত্বের দাবি করেন তাদেরকে।’

আপনার এ কথা প্রসঙ্গে বলছি, যদি বলা হয়– ঈশ্বর বলতে কিছু নাই, তা প্রমাণ করতে হবে যারা নিরীশ্বরবাদী বা ঈশ্বরের অনস্তিত্বের দাবি করেন তাদেরকে। তাহলে কী বলবেন?

অন্যকে দেখানোর মতো প্রমাণ আমার কাছে নাই (থাকলে, তা দেখিয়ে সবাইকে ঈশ্বর-বিশ্বাসীতে পরিণত করতে পারতাম!)। ঈশ্বরের অনস্তিত্ব প্রমাণের বোঝাও আপনার উপরে চাপাতে চাই না।

ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি আছে, যা আমি দেখাতে পারি ও দেখিয়ে থাকি। এর সাথে সাথে ঈশ্বরের অনস্তিত্বের পক্ষেও যুক্তি আছে, যা আপনারা দেখিয়ে থাকেন।

আমাদের আবেগ তথা মানসিক প্রবণতাই ঠিক করে আমরা কোন কোন যুক্তিকে গ্রহণ করবো। যেসব যুক্তিকে আমরা গ্রহণ করি, সেগুলো সম্পর্কে আমরা দাবি করি যে, সেগুলোর প্রমাণ আছে বা সেগুলো প্রমাণিত।

আসলে যুক্তির বাইরে কোনো প্রমাণ নাই। আমরা যুক্তিকে প্রমাণের দাবি নিয়ে গ্রহণ করি। যুক্তি + গ্রহণ = প্রমাণ।

গ্রহণ করা মানে বিশ্বাস করা। বিলিভিং ইজ একসেপ্টিং।

৮. সজীব আকিব বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনি বলেছেন, “যদি বলা হয়– ঈশ্বর বলতে কিছু নাই, তা প্রমাণ করতে হবে যারা নিরীশ্বরবাদী বা ঈশ্বরের অনস্তিত্বের দাবি করেন তাদেরকে। তাহলে কী বলবেন?”

আপনাকে একেবারে সহজ করে বিষয়টা বলি। আমি আপনাকে বললাম– ‘অংবং’ নামক একজন ঈশ্বর আছেন, যিনি এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন ও তা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার সাথে আমার বিশেষ সম্পর্ক সম্পর্ক আছে। তার এই এই বৈশিষ্ট্য আছে।

এবার তা প্রমাণ করের দায়িত্ব কার? নিশ্চয়ই আমার। আমি যদি তা প্রমাণ করতে না পারি, তবে আমার দাবি এখানেই গ্রহণের অযোগ্য হয়ে গেল। একে আর অপ্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। এ কথাটি যে কোনো সত্তার অস্তিত্বের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যেমন কেউ কোনো অদৃশ্য প্রাণী বা ভূতের অস্তিত্বের দাবি করলেও তা প্রমাণ করার দায়িত্ব স্বভাবতই তার। আরেকটি উদাহরণ দেই। আমি দাবি করলাম– ‘চংপং’ নামক এক প্রকার অদৃশ্য প্রাণীর অস্তিত্ব পৃথিবীতে রয়েছে। এবার নিশ্চয়ই তা প্রমাণের দায়িত্ব আমার। কিন্তু আমি তা প্রমাণের দিকে না গিয়ে যদি বলি, আপনারাই বরং প্রমাণ করেন এর অস্তিত্ব নেই, তবে বিষয়টা কেমন দাড়াবে?

আমি কি আপনাকে বিষয়টা বুঝাতে পারলাম? একটু পড়ে দেখেন, Click This Link, Click This Link

আপনি বলেছেন, “গ্রহণ করা মানে বিশ্বাস করা। বিলিভিং ইজ একসেপ্টিং।”

এখানে কিছুটা ঝামেলা রয়েছে। বিশ্বাসের প্রশ্ন তখনই আসে যখন তাতে সন্দেহের অবকাশ থাকে। প্রমাণসাধ্য কোনো কিছু বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় না। যেমন– কাউকে অনুরোধ করা হয় না তা বিশ্বাস করতে যে, নিউটনের সূত্রগুলো ঠিক ছিল। কারণ এগুলো বিজ্ঞানের বিষয়। এখানে প্রমাণ বা অপ্রমাণই গ্রহণের ভিত্তি। আমাদেরকে বিশ্বাস করতে হয় না যে আমাদের দুটো হাত আছে, কিন্তু আমাদেরকে ‘বিশ্বাস’ করতে হয় ভুতের অস্তিত্ব রয়েছে। আর যেখানে আমরা কোনো কিছু সত্য বলে গ্রহণ করার জন্য প্রমাণের আশ্রয় নিচ্ছি তখন কেন এই বিশ্বাস শব্দটি নিয়ে এসে অহেতুক গোল পাঁকানো হয়? কেন ‘বিশ্বাস’ শব্দটির প্রতি এই অহেতুক প্রীতি?

লেখক বলেছেন: গতকাল থেকে নেটে বসতে না পারায় আপনার মূল্যবান মন্তব্য পড়তে দেরি হলো। এ জন্য প্রথমেই আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

‘বিশ্বাস প্রীতির’ ব্যাখ্যা হলো আমার একাডেমিক চয়েস জ্ঞানতত্ব। আজকে তিনটা ক্লাশ নিয়েছি। অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে (Epistemology: Stanford Encyclopedia of Philosophy এই ঠিকানায় ম্যাটেরিয়্যালটি পাবেন), অনার্স থার্ড ইয়ারে (Theory of Knowledge by R.M. Chisholm (3rd. ed.)) এবং এমএ ক্লাশে (Contemporary Epistemology by Jonathon Dancy)।

ভাই, জ্ঞানতত্ত্বের সব বই-পুস্তকের পাতায় পাতায় ‘বিশ্বাসের’ ছড়াছড়ি। পাশ্চাত্য জ্ঞানতাত্ত্বিকরা গ্যাটিয়ার নামের এক ভদ্রলোকের মাত্র তিন পৃষ্ঠায় লেখা ‘ইজ জাস্টিফাইড ট্রু বিলিফ নলেজ?’ শিরোনামের এক আর্টিকেল নিয়ে গত পঞ্চাশ বছর হতে মাথা খারাপ করে চলেছে। আমার কী দোষ, বলেন?

জ্ঞানের উপাদান বা শর্ত হিসাবে সত্যতা ও বিশ্বাস নিয়ে তেমন মতবিরোধ দেখি নাই। কিন্তু জাস্টিফিকেশনের ব্যাপারে যতসব মতপার্থক্য।

আপনি বিশ্বাসকে দেখেছেন প্রচলিত অর্থে, আর আমি বলেছি জ্ঞানতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

প্রমাণে আপনার বেশ আস্থা। তবে দর্শনে প্রমাণের বড়ই অভাব। যু্ক্তির ছড়াছড়ি! যুক্তির সাথে বিশ্বাসের যোগ ঘটলে প্রমাণের দাবি করা হয়। যুক্তি + বিশ্বাস = প্রমাণ

আপনাকে এ ধরনের দুটো ‘প্রমাণের’ কথা বলি: Inference to the Best Explanation (IBE), Principle of Uniformity of Nature (PUN)

আশা করি এগুলো সম্পর্কে জানেন। এগুলো অনেক ‘প্রমাণের উৎস। যদিও এগুলো নিজেরা ড্যান্সির ভাষায় ‘Crucial belief’!

সরাসরি কথা হলে আরো ভাল হতো। ধন্যবাদ।

অফ ট্র্যাক: সামহোয়্যারে লগইন করার আগে টেবিলে বসেই স্যাম হ্যারিসের Misconceptions About Atheism দেখছিলাম। এক পর্যায়ে তিনি কম্যুনিজমকে ফ্যাসিজমের সাথে তুলনা করে বললেন, ‘The problem with Fascism and Communism was not that they are too critical about religion; the problem is they are too much like religion…’

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্যপ্রতিমন্তব্য

Shayer Shofiqur Rahman: সাধারণভাবে সবাই মনে করে– বিশ্বাস এক জিনিস, আর জ্ঞান তারচেয়ে ভিন্ন জিনিস। বিশ্বাসের কোনো প্রমাণ থাকে না, যা জ্ঞানের ক্ষেত্রে থাকে। কথাটি কেবলমাত্র অন্ধবিশ্বাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

Mohammad Mozammel Hoque: বিষয়টিকে এভাবে ভাবুন, কিছু প্রাথমিক বিশ্বাসের (paradigm) উপর ভর করে আমরা প্রমাণের ডালা সাজাই। এক পর্যায়ে প্রত্যক্ষ ‘প্রমাণের’ অপর্যাপ্ততা কারণে আমরা কিছু পরবর্তী বা বৃহত্তর অনুমানকে (assumption বা hypothesis) গ্রহণ করি। বিজ্ঞান এভাবেই কাজ করে।

বিশ্বাসের মবিল ছাড়া প্রমাণের ইঞ্জিন চলে না। জোর করে চালাতে গেলে তাতে আগুণ ধরে সব বরবাদ হয়ে যাবে।

We have to believe to live. No matter what we believe.

Shahidul Hoque: আপনাদের প্রীতি ওল্ড গোল্ড ডেইজ মনে করিয়ে দিলেন। বাংলা ব্লগের সোনালী সেই সময়গুলোতে অনেক ক্যাচালের মধ্যেও আপনারা কিছুজন লিখে যেতেন, আলাপ তুলতেন, তর্ক করতেন।

তখন মাত্র ভার্সিটি পাশ করে দেশের বাহিরে এসেছি। ক্লাসে তো আর তত মনোযোগী ছিলাম না। পড়াচোর বলে কথা। পার্ট-টাইম কাজ করেই দৌড় মারতাম ক্যাম্পাসে। সুইডিশ ভার্সিটি। দিন-রাত চব্বিশ ঘন্টা খোলা। রাত বিরাতে ল্যাবে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা চোখ রাখতাম বাংলা ব্লগগুলোতে।

সৃজনশীল, ভালো মানের লিখা আর ভদ্র বাহাস মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। আর পড়তাম। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে হতো, দুই চার লাইন লিখে একটু আলোচনায় যোগ দেই। কিন্তু সাহস হতো না। জানার গন্ডিটাই তো অনেক ছোট। পিপিলিকার তো আর হিমালয় জয়ের স্বপ্ন দেখা মানায় না।

জিম আল-খলিলী আমার পছন্দের কয়েকজন বিজ্ঞানীর মধ্যে অন্যতম। উনার করা সায়েন্স কমিউনিকেশনের মোটামুটি সবগুলো ডকুমেন্টারি, লেকচার দেখা আছে।

ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে সবচেয়ে বেখাপ্পা ডকুমেন্টারি হয়েছে যেটা আপনি সিলেক্ট করেছেন!

গোটা ডকুমেন্টারীটার মূল থিম ছিলো ক্যাওস থিওরি, মহাবিশ্বের প্রকৃতি আর প্রকৃতির ল নিয়ে। সবকিছুর উপস্থাপনা ঠিক ছিল কিন্তু শেষের দিকে এসে তাড়াহুড়া করে দাবি করা হয়েছে ঈশ্বরের প্রয়োজনহীনতার বিষয়টি। আমার কাছে বেশ বেখাপ্পা সমাপ্তি মনে হয়েছে সচরাচর যা উনার ডকুমেন্টারিতে হয় না।

আপনার আলাপ থেকে আমার একটা প্রশ্ন আছে। প্রশ্ন বলা যায় না, অনেকটাই ক্লারিফিকেশন মাত্র।

বিজ্ঞান যখন প্রকৃতির বিশালতা এবং নানা জটিলতার মধ্যেও সিম্পল সিম্পল গভর্নিং রুল দেখে নিশ্চিত হয়ে যায়– it can be explained by itself… So, it doesn’t need anything (or force or person or something intelligent) to exist except itself…

প্রকৃতির এই স্বয়ংসম্পূর্ণতার বিষয়টি পুরোই আপেক্ষিক।

প্লেটো, এরিস্টটল থেকে শুরু করে গ্যালিলিও পর্যন্ত যারাই এই প্রকৃতিকে প্রকৃতি হিসেবে চিনেছে, আইনস্টাইন পরবর্তী যুগের প্রকৃতির সাথে তুলনা করলে তারা প্রকৃতির শতকরা ৫ ভাগও জানতেন না। কিন্তু তাদের দাবিটা অনাদিকাল থেকেই সেইম।

“If we can explain everything, why the hell do we need Someone to be the builder of hell?”

আপত্তিটা সেখানেই। একটা অট্টালিকা গড়ে উঠেছে জ্ঞানের ক্ষুদ্রতা আর অহমিকার ইট দিয়ে।

আমার প্রশ্ন এখানেই – বিজ্ঞান যেখানে এই প্রশ্নে এখনো তার শৈশব পার হয়ে মাত্র কৈশোরে পদার্পন করেছে, ধর্ম বা দর্শনের কি দরকার পড়ছে আগ বাড়িয়ে সে প্রশ্নের সমাধান বিজ্ঞানের সাথে একটা দফারফা করে সুরাহা করতে?

আল্লাহকে খোঁজার স্টাডি তো বিজ্ঞান নয়। হারিয়ে খোঁজা মওলাকে অনুসন্ধান করার স্টাডি তো দর্শন নয়।

এমনকি উপরওয়ালাকে “খোঁজ – দ্যা সার্চ” করে এনে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার স্টাডি তো ধর্মও নয়। যদি তাই হবে, গৌতম বুদ্ধ কি বলতেন না? – Look, guys, He is in here….Keep your eyes on Him….This is Him.

লেখাটির ফেসবুক লিংক

আপনার মন্তব্য লিখুন

* চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক। আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।