ইচ্ছার স্বাধীনতা প্রসঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধিত্ব

ইচ্ছার স্বাধীনতা প্রসঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধিত্ব

দিন দিন যেন ফিলোসফি নিয়ে অনলাইন শায়খ বনে যাচ্ছি। পশ্চিমবঙ্গের এক ফিলোসফি স্টুডেন্ট নিয়মিত আমার লেখাজোকা ফলো করে। গত পরশু সে ইনবক্সে এই প্রশ্নটা করেছে। ভাবলাম আরও কারো এ নিয়ে জানার আগ্রহ থাকতে পারে। তাই হুবহু প্রশ্ন-উত্তরটা এখানে দিলাম।

প্রশ্ন: “আচ্ছা স্যার চিন্তার স্বাধীনতা কি ধর্ম বা বিজ্ঞানের দ্বারা ব্যখ্যা করা যায়? ধর্মের কথা বাদ দিলেও কিন্তু বিজ্ঞান! কার্য-কারনের বেড়াজালে আবদ্ধ চিন্তার স্বাধীনতার কোন intrinsic value নেই। তাহলে কি ন্যায়-অন্যায় বলে কিছু নেই?”

আমার সংক্ষিপ্ত উত্তর: কার্য-কারণের বেড়াজাল তো সবখানে। চিন্তারও তো আছে কারণ। চিন্তার পিছনে থাকে যুক্তির প্রেষণা। তাই না? ন্যায়-অন্যায়েরও তো কারণ থাকে। হোক সেই কারণ, কারণ হিসাবে বিশেষ কারো কাছে অগ্রহণযোগ্য।

প্রশ্নকারীর প্রতিউত্তর: “ধরুন আমি একজনকে খুন করলাম । আমার মোটিফ টাকা লুট করা। আমার মনে এই ইচ্ছা জাগলো কেন? আমার মনস্তত্ত্ব। যা আমার বাল্য বয়সের পরিবেশের মধ্যেই প্রায় নির্ধারিত হয়ে গেছে। তাহলে আমার দোষ কোথায়?”

আমার প্রতিউত্তর: কারণ মাত্রই হলো প্রকৃতপক্ষে কারণের সমাহার। each cause is actually a bundle of causes that works but we need be aware of them all. তো এই কারণের সমাহার বা বান্ডেল অব কজেস থাকে একটা সিরিয়ালিটি হিসাবে hierarchically. যে জিনিসটা সম্পন্ন হওয়ার জন্য বেশ কিছু কারণ কাজ করে, স্বতন্ত্রভাবে এর প্রত্যেকটাই উক্ত কাজে অবদান রাখে। সেই অর্থে এর প্রত্যেকটাকেই উক্ত কাজের কারণ বলা যেতে পারে।

খুন করার মনস্তত্ত্ব কারো শৈশবকালীন বিশেষ কোনো অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। তাতে করে বলা যাবে না, সেই বিশেষ অভিজ্ঞতা বা বিশেষ কোনো শারীরিক ত্রুটির কারণেই তা হয়েছে। কারণ, ওই যে বললাম, জগতে কোনো একক কারণ নাই। বরং একক কারণ বলতে আমরা যা বুঝাই তা আসলে কারণ-সমষ্টির মধ্যকার এক নম্বর কারণ বা প্রতিনিধিত্বমূলক কারণ।

দেহ-মন দ্বৈততাকে যারা অস্বীকার করেন তাদেরও নৈতিকতার ক্ষেত্রে এসে মনের ভূমিকা ও গুরুত্বের কথা স্বীকার করতে হয়। নচেৎ পুরো সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবতার সৌধ ধসে পড়বে।

এবার আসেন, দেহ মনের দ্বৈততাকে যখন আমরা মেনে নেই তখন আমরা ধরে নেই প্রত্যেক কাজের মূল কারণ হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মানসিকতা। কাজের জন্য যখন কাউকে আমরা পুরষ্কৃত করি বা শাস্তি দেই তখন আসলে আমরা সেই লোকের মনোভাবকেই পুরষ্কৃত করি বা তিরস্কৃত করি।

যদি নিতান্ত স্থুলভাবে দেখা যায়, ব্যক্তিটি বিশেষ শারীরিক অবস্থার কারণে অপরাধটি করেছে তখন আমরা তাকে রেহাই দেই। এবং তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।

এ ধরনের কোনো প্রমাণ না পেলে আমরা ধরে নিই, লোকটা ইচ্ছা করেই কাজটা করেছে। তাই এর দায়ও তাকে নিতে হবে। পূর্বেই বলেছি, এটি না করলে আমাদের সবকিছু মুহুর্তেই কলাপস করবে।

কোনো শারীরিক রোগী যাতে শাস্তি না পায় সে জন্য আইনের পক্ষপাত থাকে অভিযুক্তের পক্ষে। প্রচলিত আইনের রীতি হচ্ছে, অপরাধী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজন বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দোষ সাব্যস্ত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *