ফিলোসফির প্রয়োজনীয়তা

Everyone does philosophy but a few are aware of that.

প্রত্যেকে ফিলোসোফি চর্চা করে। কিন্তু খুব কম লোকই সেটি সচেতনভাবে বুঝতে পারে। বাতাসের মধ্যে আমরা সব সময় ডুবে থাকি। কিন্তু খুব একটা সচেতনভাবে আমরা তা অনুভব করি না। ঘাটতি পড়লেই শুধুমাত্র বুঝতে পারি।

আমরা ফিজিক্সের নিয়ম অনুসারে হাঁটাহাঁটি করি বা সাঁতার কাটি বা যে কোনো ধরনের মুভমেন্ট করি। অবচেতনভাবেই আমরা পদার্থবিদ্যার নিয়মগুলোকে মেনে চলি। পদার্থবিদ্যাবিদ হলেন তিনি যিনি নিয়মগুলোকে সচেতনভাবে অন্য অনেকের চেয়ে বেশি জানেন, অধিকতর বুঝতে পারেন এবং আরো ভালোভাবে জানার চেষ্টা করেন।

মানুষ মাত্রই জন্মগতভাবে একেকজন ফিলোসফার। যখনই মানুষ কোনো যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখনই ফিলোসফি করে। এমনকি কেউ যখন কোনো ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখনো সে ফিলোসোফি চর্চা করে। কেননা, এই ভুল সিদ্ধান্তটি সে কোনো না কোনো কারণেই গ্রহণ করেছে।

সোজা কথায় (১) যার অটোনমি আছে, (২) বিদ্যমান বা প্রদত্ত বিকল্পগুলো থেকে কেউ যখন একটা কিছুকে বেছে নেয়, (৩) এটি যখন সে ইনহারেন্ট সাবজেক্টিভিটি বা ইনটেনশনালিটি তথা নিয়তের ভিত্তিতে করে, তখন তার এই কাজটি হয় একটি নৈতিক ক্রিয়া। তাই সেটি ডুইং ফিলোসফি হিসাবে বিবেচিত হবে।

বলা বাহুল্য, শুধুমাত্র মানুষেরই আছে নৈতিকতা, নৈতিক দায়বোধ ও সার্বিকভাবে বিবেচনা করার ক্ষমতা। শুধুমাত্র মানুষের জ্ঞানই হলো তথ্যের চেয়েও অধিকতর কিছু। কোনো সচেতন ব্যক্তিসত্তা যখন প্রাপ্ত তথ্যের সাথে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি বা নরম্যাটিভ ভ্যালু সংযোজন করে তখনই তথ্যগুলো জ্ঞান হয়ে ওঠে।

এবার বলেন, এই কাজগুলো মানুষের মধ্যে কে না করে?

তার মানে, ওই যে শুরুতে বললাম, মানুষ যে চিন্তা করে সচেতনভাবে হোক কিংবা অবচেতনে, অবশ্যই তা ফিলোসফিক্যালিই করে থাকে। এটি করতে সে গঠনগতভাবেই বাধ্য।

যদিও পেশাগতভাবে হোক বা না হোক, যারা ফিলোসোফি চর্চা করে তারা ছাড়া অন্যরা নিজেদের এই স্বগত বা intrinsic দার্শনিক চরিত্র সম্পর্কে সচেতন থাকে না।

এ সম্পর্কে আরও জানার জন্য এই ভিডিওটি দেখতে পারেন:

ফেসবুক থেকে নির্বাচিত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Md. Rakibul Hasan: “মানুষ মাত্রই জন্মগতভাবে একেকজন ফিলোসফার। যখনই মানুষ কোনো যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখনই ফিলোসফি করে।” এ বাক্য দুটির ওপর ভিত্তি করে আমার কিছু প্রশ্ন:

১. যুক্তি দিয়ে কাজ করলেই কি দর্শন চর্চা হয়? যদি হয় তবে–

২. বনের বাঘ হরিণকে তাড়া করলে হরিণ যদি দৌড়ে পালায়, সেটা কি যৌক্তিক কাজ নয়? যদি হয়, তবে কি আমরা বলবো হরিণও দর্শন চর্চা করে?

ধন্যবাদ।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: predator-victim-এর ব্যাপারগুলো বা বৃহত্তর অর্থে প্রাণীদের আচরণগুলো মূলত তাদের সহজাত প্রবৃত্তি দ্বারা পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত। মানুষের মধ্যে যেমন মরাল চয়েস কাজ করে, প্রাণীদের ক্ষেত্রে সেটা হয় না। কথাটা দ্বিরুক্তি করে বললে এভাবে বলতে হয়, প্রাণীদের মধ্যে মানুষের মত intentionality নাই। তাই, তাদের কাজগুলো নৈতিক নয়, বরং জীববৃত্তিমূলক। মানুষের মধ্যে জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও নৈতিকতার উচ্চতর বিষয়াবলী সমভাবে কাজ করে। অথচ, প্রাণীদের মধ্যে তাদের জীবন বৃত্তি বা সহজাত প্রবৃত্তিগুলো হচ্ছে অত্যন্ত প্রবল। যদিও তাদের মধ্যে ক্ষেত্রবিশেষে কিছুটা সীমিত আকারের বুদ্ধিবৃত্তি লক্ষ করা যায়।

Md. Rakibul Hasan: আপনার এ কথার সাথে আমি এখন একমত। কিন্তু আমার প্রথম প্রশ্নের উত্তরটা যদি দিতেন। যদিও আপনার উত্তরটি পরোক্ষভাবে প্রথম প্রশ্নের উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলে।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: যুক্তির ভিত্তিতে কোনো কিছু করা মানেই হলো ফিলোসোফি চর্চা করা। কথাটা ঠিকই আছে। হতে পারে সে যুক্তিটা শক্তিশালী কিংবা দুর্বল, ভালো যুক্তি অথবা খারাপ যুক্তি। সাদামাটাভাবে ব্যাপারটা এরকম। যদিও ফিলোসফির কোনো বিষয়ই কনক্লুসিভ নয়।

Md. Rakibul Hasan: চূড়ান্ত নয়– সে-বিষয়ে আমিও একমত। তবে একটা অশিক্ষিত মানুষ যদি অযৌক্তিক কোনো একটা কাজকে যৌক্তিক মনে করে, সেটা কীভাবে ফিলোসফির চর্চা হয়, সে-বিষয়ে আমি এখনো সন্দিহান। ফিলোসফি যদি সবার যুক্তিই ধারণ করে, তবে ফিলোসফির নিজস্বতা বলে কি কিছু থাকে? ‘মতামত’ থেকে ‘ফিলোসফি’ তাহলে কোন দিক থেকে ভিন্ন?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: সিদ্ধান্তের দিক থেকে ফিলোসফির কোনো নিজস্বতা নাই। বিভিন্ন ধরনের, এমনকি পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তগুলো সমভাবে ফিলোসফিক্যাল হতে পারে বা হয়। এটাই হলো ফিলোসফির সৌন্দর্য। এবং ডিসিপ্লিন হিসেবে ফিলোসফির অনন্যতা।

পদ্ধতির দিক থেকে অবশ্য ফিলোসফির নিজস্বতা আছে। সেটি হলো যুক্তি।

Md. Rakibul Hasan: তাহলে ‘দর্শন’ স্তর থেকে ‘সিদ্ধান্ত’ স্তরে পৌছানোর মাধ্যম হিসেবে কী কাজ করে?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: logical analysis.

Md. Rakibul Hasan: আমি কোথাও একটা কথা শুনেছি যে সব যুক্তির একটা পাল্টা যুক্তি আছে। অর্থাৎ খারাপ একটি কাজেরও যুক্তি আছে।

আমার কথা হচ্ছে, যখন দুজন মানুষের মধ্যে কোনো একটা বিষয়ে তর্ক হয়, তারা যদি কোনো একটা বিষয়ে যুক্তির ভিত্তিতে একমত হয় এবং যে যুক্তিতে হেরে গেলো সে অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে সাজা ভোগ করে, এবং পরে দেখা যায় দুজনই ছিল ভুল– এমন ক্ষেত্রে যুক্তির পর্যালোচনার মাধ্যমে বিচার করাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: যুক্তি লাগবে। এটার কোনো বিকল্প নাই। যুক্তি লাগবে না, সেটাও একটা যুক্তি। যুক্তি থেকে কোনো মুক্তি নাই। মানুষ যুক্তিপ্রবণ প্রাণী।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক। আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।