বর্ধিত কলেবরে পুনর্পোস্ট: লজিকের শুরু হয় বিশ্বাস থেকে!?

মূল পোস্ট:

লজিক আর ফেইথের পার্থক্য কি সবসময় স্পষ্ট? যেমন ধরুন বিজ্ঞানের রানী অংকশাস্ত্রের কথা, যার মধ্যে জ্যামিতি হলো সবচেয়ে যুক্তিনির্ভর। জ্যামিতির শুরু হয় কতগুলি স্বতসিদ্ধ দিয়ে যেমন–

বিন্দু: বিন্দু হলো এমন একটি জিনিস যার দৈর্ঘ-প্রস্থ কিছুই নেই, কেবল অবস্থান আছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো জিনিস খুঁজে পাওয়া যাবে না যার কেবল অবস্থান আছে, কিন্তু দৈর্ঘ ও প্রস্থ নেই।

রেখা: এমন এক বস্তু যার কেবল দৈর্ঘ আছে, প্রস্থ নেই। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো রেখা নেই যার প্রস্থ নেই। কিন্তু জ্যামিতি পড়তে হলে আমাদের বিশ্বাস করে নিতে হয় বিন্দু আর রেখার সংজ্ঞাকে। কারণ, জ্যামিতের সমস্ত লজিক বিন্দু, রেখা ইত্যাদির উপর প্রতিষ্ঠিত।

এভাবে অনেক ক্ষেত্রে লজিকের শুরু হয় বিশ্বাস থেকে (axiomatic or Godly in a sense though axioms are not God in the religious sense, but Godly, i.e., axioms are self-justified)।

একইভাবে গণিতে শূন্য ও অসীমের ধারণা কল্পনাপ্রসূত। অথচ বিজ্ঞানের সৌধ দাঁড়িয়ে আছে এই কল্পনার উপর বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে!

*****

যাক, এই পোস্টের মূল বক্তব্য হলো– বিশ্বাসকে আমরা সাধারণত মনে করি শুধুই বিশ্বাস হিসাবে। হাইপোথিসিস বা প্রকল্প হলো অনুমান যার ভিত্তিতে পরীক্ষণ সম্পন্ন করা হয়। অনেক বছর আগে প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম। ফলাফলও ভালো ছিল। বর্তমানে আমি দর্শনের ছাত্র। আমার আগ্রহের বিষয় হলো সমকালীন জ্ঞানতত্ত্ব। আমাদের দেশে হাতেগোনা দু’চার জন এ বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করেছে। আমাদের প্রচলিত অনেক ধারণা জ্ঞানতত্ত্বে এসে পরিবর্তন হয়ে যায়। এ কথা সত্যি যে আমরা কিছু ধরে নিয়ে সেটির ভিত্তিতে অর্থাৎ সেটিকে অভ্রান্ত ধরে নিয়ে অন্যগুলোকে যাচাই করি। তবে যেটিকে আমরা প্রথমেই (যাচাইকরণ ব্যতিরেকে) গ্রহণ করি সেটিকে পরবর্তীতে আমরা আবার পুনর্মূল্যায়ন করতে পারি। দুটো তত্ত্বকে ঘিরে এই আলোচনা: ফাউন্ডেশনালিজম ও কোহারেন্টিজম।

গণিতের এক সহকর্মী বিন্দু, রেখা, অসীম, কাল্পনিক সংখ্যা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। সে অনুসারে এই পোস্ট।

জ্ঞানতত্ত্বে সবই বিশ্বাস, কিছু বিশ্বাস শুধুই বিশ্বাস, কিছু বিশ্বাস যাচাইকৃত ও সত্য। শুধুমাত্র সেসব বিশ্বাসই জ্ঞান পদবাচ্য, যা যাচাইকৃত ও সত্য। এ অর্থে আমাদের ইন্দ্রিয়জ জ্ঞানসমূহও মূলত (ইন্দ্রিয়জ) বিশ্বাস। আমার চোখ এই স্ক্রিনকে সাদা দেখাচ্ছে বলে আমি বলছি– এটিকে আমি সাদা দেখছি; বা বলছি– এটি সাদা। এক্ষেত্রে আমি, জ্ঞানের কর্তা ও এই স্ক্রীন জ্ঞানের বিষয়। এর মাঝখানে আমার ইন্দ্রিয়জ প্রক্রিয়া – এ ক্ষেত্রে দৃষ্টি-প্রক্রিয়া – ক্রিয়াশীল। এই সম্পর্কটির মাঝখানে দৃষ্টি-প্রক্রিয়া থাকায় একটি অ-প্রত্যক্ষ সম্পর্ক। প্রত্যক্ষ সম্পর্ক হলো আমার সত্ত্বা বা আমি ও আমার দৃষ্টি-প্রক্রিয়া তথা চোখের মধ্যকার সম্পর্ক। আমি যৌক্তিকভাবে বিশ্বাস করি, আমার ইন্দ্রিয়সমূহ আমাকে ‘বাস্তব জগত’ সম্পর্কে ‘সত্যিকারভাবে’ সাক্ষ্য দেয় বা বলে। যদিও আমার এ বিশ্বাসের ইন্দ্রিয়-অতিরিক্ত কোনো প্রমাণ আমার নাই, যাকে আমরা সাধারণত স্বজ্ঞা বলি, কাণ্ডজ্ঞান ব্যতিরেকে। এজন্য কমনসেন্সবিরোধী কোনো কিছুকে বলা হয় কাউন্টার-ইনটুইটিভ। দেখুন, কীভাবে আমরা সেন্স-পারসেপশন হতে ইনটুইশনে এসে পড়লাম।

আমার এ কথাগুলো আপনাদের কাছে বিদঘুটে লাগাটা স্বাভাবিক। সেদিন ‘আস্তিকতা-নাস্তিকতা বিতর্ক প্রসঙ্গে’ শিরোনামের পোস্টটিতে ‘মাপকাঠির মাপ কী’ প্রসঙ্গে একজন বলল– আমরা ফুটকে ইঞ্চি দিয়ে মাপি, ইঞ্চিকে আরো ছোট এককে মাপি, ইত্যাদি ইত্যাদি। তিনি অত্যন্ত সহজ একটা কথা স্বীকার করতে দ্বিধা করলেন যে, আসলে সব কিছুর মাপ হয় না, অন্তত মাপকাঠির মাপ হয় না। না হওয়াটাই স্বাভাবিক তথা যুক্তিসংগত।

যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদীরা বলেছিলেন, অর্থপূর্ণ হতে হলে সব বচনের যাচাইযোগ্যতা তথা পরীক্ষণের উপায় থাকতে হবে। সুতরাং, যে কথার কোনো বাস্তব পরীক্ষণ সম্ভব নয়, তা অর্থপূর্ণ নয়। আর অর্থপূর্ণ না হলে তা সত্য বা মিথ্যা হওয়ার আর কোনো অবকাশ থাকে না। সুতরাং সেটি পরিত্যাজ্য তথা অর্থহীন, আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। লজিক্যাল পজিটিভিস্টদের এই দাবির বিরুদ্ধে উত্থাপিত চোখা চোখা সব যুক্তির আলোচনাতে ব্লগের পরিবেশ ভারাক্রান্ত না করে বোদ্ধা পাঠকের জন্য শুধু এটুকু বলা যথেষ্ট হবে যে, সবকিছু পরীক্ষণের আওতায় আসতে হবে– এই বাক্যের পরীক্ষণ কী? নাই। এই বাক্যকে মূলনীতি হিসাবে ধরে নিয়েই সব কিছুকে পরীক্ষণের প্রয়াস গ্রহণ করা হয়।

বলা হয়, কোনো অজানা সংখ্যাকে এক্স ধরে সমীকরণ করলে অজানা সংখ্যাটি সত্যি সত্যি বা বাস্তবিকই এক্স হয়ে যায় না। কথা ঠিক। কিন্তু যদি প্রাপ্ত ফলাফল এটিকে এক্স বলতে আপনাকে বাধ্য করে, অজানা সংখ্যাটিকে ওয়াই ধরা হলে যদি সমীকরণ না মেলে? তখন নিশ্চয়ই আপনি ফলাফলে প্রাপ্ত এক্সকে ওয়াই বলবেন না। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা প্রদত্ত বা আরোপিত নামকে বদল করে দিতে পারি যদি তা প্রাপ্ত ফলাফলের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। কোনো কিছুর মান যদি হয় ৫; আর যদি এক্স-এর মান ৫ এবং ওয়াই-এর মান ২ হয়, তাহলে আপনি অজানা সেই কোনো কিছুকে কতক্ষণ এক্স, আর কতক্ষণ ওয়াই বলতে পারবেন না। এর মোটিভ হচ্ছে বিশ্বাসের সাথে যুক্তি ও প্রমাণের সম্পর্ক নির্ণয় করা। যুক্তি ও প্রমাণ অবশ্যই বিশ্বাস হতে আলাদা বটে; কিন্তু বিশ্বাস হলো ভিত্তি ও পরিণতি।

ধারাটা এমন: প্রাথমিক বিশ্বাস হতে অনুমান। অনুমানের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি নির্মাণ। যুক্তির ভিত্তিতে তত্ত্বগত প্রমাণ-প্রয়াস। প্রমাণনির্ভর বিশ্বাস = জ্ঞান। উল্লেখ্য, কোনো জ্ঞানই নীতিগতভাবে বা স্বয়ং অপরিবর্তনীয় নয়। যে ‘জ্ঞান’-এ বিশ্বাস নাই, জ্ঞানতত্ত্ব মোতাবেক তা আদৌ জ্ঞান হিসাবে গণ্য হতে পারে না।

আমরা যা কিছু দেখি, তা জ্ঞান নয়। বরং যা কিছুর ভিত্তিতে দেখি ও দেখে যা কিছু মনে করি, জ্ঞান হলো সেসব কিছুর সমষ্টি।

আমার এ বক্তব্যের বিপরীত কোনো একাডেমিক সোর্স বা রেফারেন্স পেলে জানাবেন, উপকৃত হবো। তবে তা হতে হবে পাশ্চাত্যের হালনাগাদ প্রচলিত জ্ঞানতত্ত্বের কোনো নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স।

নির্বাচিত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

পোয়েট ট্রি: যুক্তির শুরু কখনই বিশ্বাস থেকে নয়, প্রকল্পনা থেকে। দর্শনশাস্ত্রে জ্ঞান বাড়তে থাকলে মানুষ ধীরে ধীরে গণিতের (অর্থাৎ বিজ্ঞান) বদহজমের শিকার হয়। এক সময় ধর্মযাজক বা মৌলানা হয়ে যায়। প্রাথমিক লক্ষণ আপনার মধ্যেও দেখা যাচ্ছে।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: সরাসরি গালি না দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমি গালি দিতে ও শুনতে নারাজ। গালি না দিয়ে যারা সমালোচনা করতে পারেন, তাদের সুস্বাগতম।

তো ভাই, প্রকল্পনা (সম্ভবত হাইপোথিসিস বুঝিয়েছেন) কি প্রমাণ নাকি বিশ্বাস? কারণ, সম্ভবত আপনার ধারণা হলো ব্যাপারটা টু-ফোল্ডেড: হয় বিশ্বাস নতুবা প্রমাণ। তা-ই যদি হয় তাহলে প্রকল্পনা আসে কোত্থেকে? পরীক্ষণ কি প্রকল্পনার পূর্ববর্তী না পরবর্তী? যদি পূর্ববর্তীও হয়, তাহলে ‘পরীক্ষণের প্রকল্পনা’ আসে কোত্থেকে?

আসলে প্রথমে ধরে নেয়া হয়, এরপর পরীক্ষণ করা হয়। প্রকল্পনা পরবর্তী তত্ত্বে কতটুকু পরীক্ষণ ফলাফল থাকা জরুরি, সেটি ভিন্ন বিষয়।

পোয়েট ট্রি: “যে ‘জ্ঞান’-এ বিশ্বাস নাই, জ্ঞানতত্ত্ব মোতাবেক তা আদৌ জ্ঞান হিসাবে গণ্য হতে পারে না।”

ধরুন, একজন হাতে একটা ইট নিল আর বিশ্বাস করল এটা ইট; আরেকজন ইটভাটার সামনে দাঁড়িয়ে হাতে কিছুই নিল না এবং বিশ্বাস করল তার হাতে একটা ইট।

এই দুই বিশ্বাসের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য কী?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: প্রথমটি জাস্টিফাইড ট্রু বিলিফ আর দ্বিতীয়টি ফলস বিলিফ। ধন্যবাদ।

পোয়েট ট্রি: প্রকল্পনার শ্রেষ্ঠতম উদাহরণ:

মহাবিশ্বে বস্তু ও তার গুণগত ফলাফল– এ দুইয়ের বাহিরে আর কোনো কিছুরই অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।

এটি একটি প্রকল্পনা।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: হ্যাঁ ভাই, প্রকল্পনা আছে, থাকবে। এটি সমস্যা বা বিতর্কের বিষয় নয়। দ্বিমতের বিষয় হলো প্রকল্পের উৎপত্তি ও পরীক্ষণের সাথে এর কালিক সম্পর্কের বিষয়ে।

পোয়েট ট্রি: সেটাও আমি দ্বিমত করি না। কিন্তু ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে মানুষ যখন বিজ্ঞান (গণিত) ও দর্শন নিয়ে উঠে পড়ে লাগে, তখন এর অন্তর্নিহিত মতলব বিষয়ে আমার শঙ্কা জাগে। ভালো থাকুন। আপনার পোস্ট ও প্রকল্পটি ভালো, আশা রাখি বিশুদ্ধতার পক্ষেই। অন্য কোনো উদ্দেশ্য সাধনের ভনিতা নয় মর্মে আস্থা রেখে, সাধুবাদ জানাই ।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: ঈশ্বরের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ নাই। না থাকারও প্রমাণ নাই। ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণনির্ভর নয়। যুক্তিনির্ভর। তবে ঈশ্বর না থাকার পক্ষে প্রদত্ত যুক্তিগুলোও উল্লেখযোগ্য। আমার ব্লগে এ সম্পর্কে আগের পোস্ট আছে।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

পারভেজ আলম: “জ্ঞানতত্ত্বে সবই বিশ্বাস”– এইটা আপনার পোস্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য। আমার প্রশ্ন হইলো কোন জ্ঞানতত্ত্বে, কার জ্ঞানতত্ত্বে? সমকালীন জ্ঞানতত্ত্বে যেইখানে বুদ্ধিবাদ আর অভিজ্ঞতাবাদ মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ কিছু বইলা বিবেচনা করা হয় না, সেইখানে “জ্ঞানতত্ত্বে সবই বিশ্বাস” বক্তব্য দিয়া কি অর্থ প্রকাশিত হয়, আমার কাছে তা বোধগম্য না। অথবা, বুদ্ধিবাদ বা অভিজ্ঞতাবাদেও সব জ্ঞানই কীভাবে বিশ্বাস হয় আমার জানা নাই, জ্ঞানতত্ত্ব সম্পর্কিত কোনো দার্শনিকের রচনায় এমন কিছু পড়েছি বলেও মনে পড়ে না।

ইন্দ্রিয়জ জ্ঞান কীভাবে আসলে ইন্দ্রিয়জ বিশ্বাস তা নিয়া আপনে অনেক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করছেন। অথচ আপনার এই থিওরি প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে তার আগে আপনার বিশ্বাস জিনিসটার যেই ধরনের যৌক্তিক ডেফিনিশন দিতে হবে তা আপনে দেন নাই। অথচ সেইটাই জরুরি ছিল আগে। তাই আমার কাছে আপনার মূল বক্তব্য পথহারা মনে হইছে।

আমার ভুল হইতে পারে, যদি হয় তাইলে কোথায় ভুল হইছে ধরায়া দেয়ার দায়িত্ব আপনের।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

আপনি ঠিকই ধরেছেন সমকালীন জ্ঞানতত্ত্বে বুদ্ধিবাদ আর অভিজ্ঞতাবাদ মিউচুয়্যালি এক্সক্লুসিভ বলে বিবেচনা করা হয় না। আসলে সমকালীন জ্ঞানতত্ত্বে বুদ্ধিবাদ ও অভিজ্ঞতাবাদ মূল আলোচ্য বিষয় নয়। এসবের রেফারেন্স আসে, বিশেষ করে অভিজ্ঞতাবাদের (আমরা সবাই কমবেশি অভিজ্ঞতাবাদী, এমনকি বুদ্ধিবাদীরাও– সেজন্য)। সমকালীন জ্ঞানতত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্য হলো জাস্টিফিকেশন।

১৯৬৩ সালে গ্যাটিয়ার এক প্রবন্ধে (মাত্র ৩ পৃষ্ঠার) দেখান, অনেক লাকি গ্যাজও জ্ঞানের তিনটি শর্ত (বিশ্বাস, সত্যতা ও যাচাইযোগ্যতা) পূরণ করে। অতএব…

অতএব কী হবে– এই নিয়ে সব আলোচনা। এর মধ্যে বিশ্বাস ও সত্যতা নিয়ে জ্ঞানতাত্ত্বিকরা খুব একটা বিস্তারিত আলোচনা করেন না। বিশ্বাস মানে গ্রহণ করা। আর সত্যতাকে বিবেচনা করা স্বগতঃ সত্য হিসাবে। সব আলোচনা কেন্দ্রীভূত হলো জাস্টিফিকেশনের উপরে। জাস্টিফিকেশনের বাংলা ন্যায্যতা না হয়ে যাচাইযোগ্যতা এজন্য হবে যে, জাস্টিফিকেশন বলতে এখানে ভেরিফিকেশন বোঝানো হয়ে থাকে।

অ্যাম্পেরিক্যাল বিলিফ, বেসিক অ্যাম্পেরিক্যাল বিলিফ– এগুলো এপিস্টেমোলজির বইয়ের কমন ব্যাপার।

জ্ঞানতত্ত্বের জন্য আমাদেরকে দেখতে হবে পাশ্চাত্যের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের পাঠ্য-পুস্তকগুলো। এমনিতে জ্ঞানতত্ত্বের উপর প্রচুর লেখা। সেসব নিয়ে আগ্রহ কম। জোনাথন ড্যান্সির ‘কনটেম্পোরারি এপিস্টেমোলজি’ এ মুহূর্তে আমার টেবিলে আছে।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: মনে করুন একটি বৃত্ত যেটি বিশ্বাসে পূর্ণ। এর মধ্যে আর একটি উপবৃত্ত যা হলো সত্যতায় পূর্ণ। এটির মধ্যে আরও একটি ক্ষুদ্রতর বৃত্ত যা হলো যতটুকু যাচাই করে পাওয়া গেছে তার সমষ্টি। এখন, অন্তস্থ এই দুই উপবৃ্ত্ত নিয়ে যে মূল বৃত্ত তা-ই হলো জ্ঞান। অতএব, আপনার বিশ্বাসের পরিধি যতটা বাড়াবেন-কমাবেন, সে অনুযায়ী আপনার জ্ঞান ভিন্ন ভিন্ন হবে। অথচ সবসময়েই সত্যতা অভিন্ন আর যাচাই প্রায়-অভিন্ন থেকে যায়। এটি হলো JTB = K-এর ব্যাখ্যা

আমার লেখার খুব সমস্যার কারণে বিস্তারিত লিখতে পারলাম না বলে দুঃখিত। আপনার ব্যক্তিগত পরিচয় পেলে খুশি হবো। চাইলে মেইল করতে পারেন।

পারভেজ আলম: আমার পরিচয় তেমন কিছু না, নাম এইটাই, পরিচয় খানিকটা আমার প্রোফাইলে দেয়া আছে। এই ব্লগে অবশ্য খাঁটি দর্শন নিয়া আলোচনা অনেক কম হয়, আপনের সাথে আলোচনা তাই ভালোই লাগলো। তবে আপনে অনেক বেশি অধিবিদ্যক পদ্ধতিতে চিন্তা করেন। বেশ কিছু অধিবিদ্যক বিষয় আছে যেইগুলা এই জাস্টিফিকেশনের যুগে, বিশেষ কইরা ভৌত বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে দর্শনের আলোচনার বাইরে থাকাই ভালো। তবে আমি অধিবিদ্যার বিরোধী না, বরং বর্তমান যুগের প্রয়োজনীয় অধিবিদ্যার উত্থান আশা করি, যেইটা প্রচলিত ভৌত বিজ্ঞানের অমিমাংসিত সমস্যাগুলা নিয়া আলোচনা করবে।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: ধন্যবাদ। আসলে দর্শনের আওতার বাহিরে কিছু নাই, আপনি জানেন। দর্শন সর্বদাই কোনোকিছুর দর্শন। এমনকি দর্শনও দর্শনের আলোচনার বিষয় হতে পারে।

আমার চিন্তাধারা অধিবিদ্যক হতে পারে। অধিবিদ্যা দর্শনের একটি ক্ষুদ্র অংশ। যদিও সেটি মূল অংশ। যেমন মস্তিস্ক শরীরের ক্ষুদ্রতর অংশমাত্র ।

কিছু মনে করবেন না, আপনি কি ফিলোসফি গ্র্যাজুয়েট?

পারভেজ আলম: জ্বি না, আমি আইটি নিয়ে পড়াশোনা করেছি। তবে সিরিয়াসলি দর্শন চর্চা করি। জ্ঞানতত্ত্ব আমার পছন্দের বিষয়। তবে জ্ঞানতত্ত্ব নিয়ে আমি অধিবিদ্যক চিন্তার চেয়ে আধুনিক ভাষানির্ভর জ্ঞানতত্ত্বকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। ফ্রেডেরিক নিৎসে, মিশেল ফুকোর জ্ঞানতত্ত্ব, চিন্তাভাবনা আমার ভালো লাগে। তবে জ্ঞানতত্ত্ব নিয়া আমার নিজের কিছু চিন্তাভাবনা আছে, যেইখানে নতুন ধরনের কিছু অধিবিদ্যক উপাদান হয়তো আছে।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: চমৎকার! আপনার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারলে খুব ভালো লাগবে।

উদাসী স্বপ্ন: মারছে, দর্শন আমার লাইন না!

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: ভাই, দর্শন সবার লাইন, কারো সচেতনে, কারো অবচেতনে। যেমন, পদার্থবিদ্যা সবারই লাইন, কারো সচেতনে, যাদের আমরা পদার্থবিদ্যাবিদ বলি, আর কারো অচেতনে, পদার্থবিদ্যাবিদগণ বাদে অন্যরা। আমি যখন বাঁক কেটে আমার সাইকেল চালাই তখন আমি একটি নির্দিষ্ট মাপে হেলে পড়ি। আমি জানি, এটি করা দরকার। এ ক্ষেত্রে পদার্থবিদ্যার নির্দিষ্ট নিয়ম আমি মেনে চলি, যদিও তা হয়তো জানি না। তেমনি প্রতিটি মানুষ চিন্তাশীল সত্তা হিসাবে দার্শনিক। আপনি এমন কোনো কথা বলতে পারবেন না, দার্শনিকদের একটা বিরাট দল যেটির পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা করেন নাই। বুদ্ধির চর্চা মানেই দর্শন চর্চা। আর মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত সংজ্ঞা হলো: মানুষ একটি বুদ্ধিমান প্রাণী। তাই না?

উদাসী স্বপ্ন: যুক্তি খণ্ডানোর এবং দেখানোর অসাধারণ ক্ষমতা আপনার। তবু আমি একটু বলি, ফিজিক্স কখনোই আগে আসেনি। ধরতে পারেন এটা একটা অস্ত্র, যেটা দিয়ে মানুষ প্রতিদিন রহস্য উন্মোচন করে সেটাকে তার দৈনন্দিন কাজে লাগাচ্ছে। আমরা যখন সাইকেল নিয়ে বেঁকে যাই, তখন থ্রেশহোল্ড এ্যাঙ্গেলটা আমাদের ক্যালকুলেশন করতে হয় না, এটা সহজাত প্রবৃত্তি বশেও কিন্তু আসে না। এটা রপ্ত করি আমরা রেগুলার প্র্যাকটিসের মাধ্যমে। এমন অনেক কৌশল আমরা বের করেছি এর সূত্র বের করার আগে। যেমন– সিলিকন। বার্জেলিয়াস অনেক কাজ করতে করতে এই মৌলটি আবিস্কার করেন। তারপর এর সর্বোচ্চ পিউরিফিকেশনে হাত দেন। তার বহু পরে পর্যায় সারণী মাপতে মাপতে এটার অস্তিত্বের সম্ভাবনা জানা যায়। তখন এই বের্জেলিয়াস ব্যাটাকেই খুঁজে বের করে আনে। তবে সহজাত প্রবৃত্তি বলে যদি কিছু থাকতো তাহলে মানুষ প্রথমবারই সাইকেল চালানো শিখতো। এটা একটা সহজ সূত্র বলেই মানুষ নিজে নিজে নিজের মাথা খাটিয়ে বের করে ফেলে এভাবে না এভাবে। সাঁতার শিখতে আর্কিমিডিসের ল লাগে না, মানুষের এই ন্যূনতম এক্সপার্টিজ দেয়া আছে বলেই মানুষ এটা আগে শিখেছে। কিন্তু ভাসমান বস্তুর সূত্র পরে বের হয়েছে।

সেভাবেই বলা ফিজিক্স, ইলেক্ট্রনিক্স আমার লাইন। কারণ, আমি এদের দেখানো সূত্র দিয়ে দুনিয়ার ব্যাবহারিক বস্তুর সমাধান বের করতে সচেষ্ট। আর আপনি যুক্তিবিদ্যার লোক বলে এদিক দিয়ে সব বিচার করতে চান।

মেটাফিজিক্সের ব্যাপারে একটু দ্বিমত আছে আপনি যেভাবে বিশ্লেষন করলেন। এটা অনেকটা বোসন কনার মতো। আমাদের মধ্যে যারা সংশয়বাদী তারা সব সূত্রের উপর আঙ্গুল তুলে বলেন– ভর আসল কোথা থেকে? আর যারা আশাবাদী তারা বলে– এই তো বোসন কনা পেলাম বলে। এগুলো এখন প্রতিষ্ঠিত সত্যের কাছাকাছি। বিজ্ঞানী তাদের হাতে থাকা যে অস্ত্র আছে সেগুলো দিয়ে ভেবে দেখেছে আসলে এ রকম কনার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব। তাই বলে কিন্তু বস্তুর ভর যে এখন নেই, এটা হাস্যকর। সবকিছুরই একটা কার্যকারণ থাকবে, থাকবে কজালিটি, এটা ফিজিক্সের চরম সত্য। ফিজিস্টরা যতই উচ্চাভিলাসী তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করুক, ক্যালকুলেশন করুক সেখানে কজালিটি একটা চরম সত্য।

এখন আমরা মনে করছি আত্মা যেহেতু ফিজিক্স বা মেডিকেলের ভাষায় প্রমাণ করাটা অসম্ভব, সেহেতু আত্মা বলে কিছু নেই, আবার থাকতেও পারে। কিন্তু এক সময় দেখা যাবে (যদি ক্রেগ ভেন্টার নন-বায়োলজিক্যাল এলিমেন্ট দিয়ে পূর্ণাঙ্গ জটিল জীবনের উন্মেষ ঘটাতে পারেন) আত্মার ধারণা একসময় বাতিল হয়ে যেতে পারে। তখন মানুষ ভাববে সব কিছুই ম্যাটেরিয়ালিস্টিক।

আমি এভাবেই বুঝি, যদিও বা আমার বুঝাটাই চরম সত্য নয়!

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: ধন্যবাদ, সুন্দর ও বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য। দেরিতে পড়ার কারণে রেসপন্স করতেও দেরি হলো। দুঃখিত।

এক সময় যখন আত্মার ধারণা বাতিল হয়ে যাবে তখন আত্মা-বিশ্বাসের কী হবে?

আসলে এটি হচ্ছে বস্তুবাদী তত্ত্ব। আত্মা হচ্ছে অ-বস্তু। তাহলে বস্তু কী? বস্তুকে বুঝতে হবে বস্তু-আত্মা বিতর্ক বা সম্পর্কের প্রেক্ষিতে। যেটি অষ্টাদশ, ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত বেশ জোরেশোরে চলেছে। এখন বস্তুর ‘অ-বস্তুগত’ অবস্থা। বিংশ শতাব্দীর প্রথম অংশ পর্যন্ত যেসব আচরণ ও বৈশিষ্ট্যকে অ-বস্তুগত মনে করা হতো, ‘বস্তু’ এখন তেমন রূপ ধারণ করেছে। মানে বস্তুর এমন সব বৈশিষ্ট্য বলা হচ্ছে, যাতে বস্তু আর ‘ডাস ক্যাপিটাল’ যুগের বস্তু নাই। সকল বস্তু এখন নীতিগতভাবে শক্তির সমষ্টি। বস্তু থেকে যখন আমরা শক্তিতে আসি তখন আমরা মনের তথা মানসিক শক্তির অনেক কাছাকাছি চলে আসি। রাসেলের নিরপেক্ষ এককত্ববাদও এখানে উদাহরণ হিসাবে আসতে পারে।

উদাসী স্বপ্ন: আগে একটা প্রশ্ন করি, কমেন্ট পড়ে মনে হলো আপনি পেশায় বোধহয় শিক্ষক। তো আপনাকে স্যার বলে ডাকবো নাকি ভাইয়া? যদি ভাইয়া বলে ডাকতে দেন তাহলে ‘বস’, ‘ওস্তাদ’ বলে সম্বোধন করাটা আমার সহজাত অভ্যাস, আর স্যার ডাকতে দিলে স্যারেই সীমাবদ্ধ থাকবো!

ধন্যবাদ আপনাকে দেই যে আপনি আমার কথাগুলোকে আপনার সাবলীল যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেছেন। এখানে একটা কথা বলি –আপনি আপনার যুক্তিতেও এ সময়ের আবিস্কৃত বা প্রচলিত ধারণার উপর থেকেই করেছেন। আপনার কথা ঠিক যে আত্মার ধারণা এখনও বেশ অচলের দিকেই। তবে আমি এটাকে একটু অন্যভাবে দেখবো। যখন কিছু নন-অর্গানিক কেমিক্যাল এমনভাবে নিজেদের মধ্যে হয়ে প্রোটিন তৈরি করে বিশেষ পরিবেশে একটি জীনের উদ্ভব ঘটায়, তখনই কিছু বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে ধরা দেয়। জটিলতর জীন দিয়ে সৃষ্ট জীবের মধ্যে আত্মা বলে কিছু একটা সেটাকে বলা যায় একটা অস্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ। যাই হোউক, আপনার আগামী পোস্টগুলো পড়তে চাই, অনেক কিছু শেখার আছে বোধ করি!

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: পেশায় আমি যা-ই হই না কেন, ব্লগে আমি শুধুই লেখক। সুতরাং, স্যার বলার কারণ নাই।

আপনার প্রশ্নের সূত্রে আমি একটা নতুন পোস্ট দিচ্ছি

সততা: একটু অফট্র্যাক কোয়েশ্চেন। স্যাম হ্যারিসের এই প্রেজেন্টেশনের কোনো বিষয়ে কি আপনার দ্বিমত আছে?

Science can answer moral questions

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: আমি এটি দেখার আগেই মন্তব্য লিখছি, ‘সায়েন্স ক্যান অ্যানসার দি মোরাল কোয়েশ্চেনস’– এই শিরোনামের ভিত্তিতে।

না ভাই, Science can’t answer the moral questions। নৈতিক প্রশ্নের উত্তর পাবেন নীতিবিদ্যায়। বিজ্ঞান এ ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাতাসে ডুবে থেকে যেমন আমরা মনে করি যে আমরা ফ্রি আছি, মনে করি না যে আমরা কোনো কিছুর মধ্যে ডুবে আছি; দর্শনের মধ্যে ডুবে থেকেও আমরা প্রায়শই মনে করি যে, আমরা মুক্ত, অন্তত দর্শন হতে মুক্ত আছি ইত্যাদি।

দর্শন ও বিজ্ঞানের সম্পর্ক প্যারেন্টস-কিডস রিলেশনের মতো। সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে থাকার কারণে বর্তমানে দর্শন হলো গ্রামে থাকা গোবেচারা অর্থসম্পদ-উপযুক্ত মর্যাদাহীন প্যারেন্টসের মতো।

আমার এক স্নেহাষ্পদ তরুণ বিজ্ঞানী আমাকে ঠাট্টা করে বলল, ভাইয়া, বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহে পাথ-ফাইন্ডার পাঠিয়েছে, আপনারা ফিলোসফাররা কী করেছেন? আমি হালকা মেজাজে বললাম– দেখো, পৃথিবীতে কোটি কোটি দরিদ্র মানুষ, এত অভাব থাকতে মানুষ কেনো মহাশূন্য জয় করতে চায়? মঙ্গল গ্রহ হতে তেল আনার জন্য নিশ্চয় নয়?

এই-ই হলো ফিলোসফি। ধন্যবাদ।

সততা: ভিডিওটা দেখলে ঠকবেন না। ভিডিওর কোন ‘অংশগুলো’ আপনার কাছে ‘বিতর্কিত’ মনে হয়েছে, সময় থাকলে একটু খোলাসা করলে খুশি হব।

ধন্যবাদ

আর কোটি কোটি মানুষকে অভুক্ত রেখে বিলিয়ন ডলার ‘স্পেস এক্সপ্লোরেশনেরও’ অনেক পজিটিভ দিক আছে

১. আজকের ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল কমিউনিকেশন স্পেসে কৃত্রিম উপগ্রহ বসানোর কারণে সম্ভব হয়েছে।

২. Need a CAT or MRI scan? You have the space-race to thank for them. Smoke detector? From Skylab, 1973. Thermal clothing? Space again.

৩. it is just as necessary as climbing trees and mountains, and crossing rivers, and it’s our nature to explore.

‘কোটি মানুষ অভুক্ত’ থাকার যুক্তি দেখালে এলসিডি টিভি/সংসদ ভবনের আর্কিটেকচার– কোনোটারই ভিত্তি থাকে না।

আবদুল ওয়াহিদ: “বিজ্ঞানের সৌধ দাঁড়িয়ে আছে এই কল্পনার উপর বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে।”

বিশ্বাস নিয়া মেলা খাটনা-খাটনি করতেছেন। কিন্তু বিশ্বাসটারে আরেকটু খোলাসা করলে ভালো হইতো।

বিন্দু বা রেখার ব্যবহারের দিক আর বিশ্বাস করা আলাদা বিষয়। ধরেন, এটা আপনি জানেন যে বাস্তবিক বিন্দু বা রেখার অস্তিত্ব সম্ভব নয়, কিন্তু আপনার প্রয়োজনে একে ধরে নিতে হচ্ছে। এটাকে যদি বিশ্বাস বলেন, তাহলে বলতে হবে আপনাতে বিন্দুর জ্ঞান হইসে। আবার আপনি জানেন, ধরে নেয়া ছাড়া এর সত্যতা নাই। তাহলে এটা জ্ঞান হবে কেমনে।

আবার ধরা যাক, মহাবিশ্বে সরল রেখা বইলা কিছু নাই। সবই বক্র। কিন্তু আমাদের স্পেসের কারণে আমরা চাইলে সরলরেখা আকঁতে পারি। এতে বিশ্বাস করি। যে জানে না, তার জন্য জ্ঞান পদবাচ্য হইতে পারে। কিন্তু যে জানে তার কি হইব…

জ্ঞানের স্থানিক-কালিক সম্পর্ক দেখাইলে ভালো হইত। তাইলে দুনিয়াবী জ্ঞানের ঠিকুজী পষ্ট হবে বলে মনে লয়।

আমি মনে করি অধিবিদ্যা ছাড়া দর্শনের বড় বেশি মূল্য নাই।

ধন্যবাদ, আপনার এইসব লেখার সূত্রে অনেক কিছু জানতে পারছি, যা আমার পড়াশোনার কাজে লাগছে।

আশা করছি ভালো আছেন।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: “অধিবিদ্যা ছাড়া দর্শনের বড় বেশি মূল্য নাই।”

এটি খুব ভালো লাগল। আজকাল তত্ত্ব বাদ দিয়ে বা সুপারফিসিয়্যাল থিওরি দিয়ে, বিভিন্ন টেকনিক্যালিটি দিয়ে মেটাফিজিক্যাল ইস্যুগুলোকে এড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এটি অজ্ঞতা। মেটাফিজিক্স ইজ অ্যান আনএন্ডিং প্রসেস, বাট ইট ইজ এ মাস্ট।

ও হ্যাঁ, এই লেখায় আমি আসলে ঈশ্বরবিশ্বাসের প্রসঙ্গ আনিনি। আমি শুধু বিশ্বাসের সর্বব্যাপী ক্ষেত্রকে নির্দেশ করতে চেয়েছি। কারণ, অনেক প্রগতিশীল ধর্মীয় বিশ্বাসকে খণ্ডন করতে গিয়ে বিশ্বাসের গুরুত্বকে ডিমিনিশ করার চেষ্টা করেন। এ কাজে তারা বিজ্ঞানের দোহাই দেন। এ বিষয়টিকে লক্ষ্য করে আমার এ লেখা।

আমার লেখাগুলোকে তুমি কীভাবে ট্র্যাক করো?

স্তব্ধতা‘: অবতরণিকা: বাংলা টার্ম না জানাতে আমাকে ইংরেজি টার্মগুলো ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে দু:খিত। আপনার মতো সুন্দর করে বাংলা টার্ম লেখা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রথমত: ‘লজিকের শুরু হয় বিশ্বাস থেকে’ এই শিরোনামে বিশ্বাস ও হাইপোথিসিসকে এক করে ফেলাটা আমার ভীষণ অপছন্দ হয়েছে। আমি ফেইরি টেইলসে বিশ্বাস করতে পারি, দানবে বিশ্বাস করতে পারি, আমি বহ্নি শিখার সাত-মাথার ড্রাগনে বিশ্বাস করতে পারি। কিন্তু তার থেকে লজিক্যাল কনক্লুশনে আসতে পারি না। লজিক্যাল কনক্লুশনে আসতে হলে আমার হাইপোথিসিস ডেভেলপ করতে হবে, টেস্ট করতে হবে, তারপর তা থেকে তত্ত্ব তৈরি করলে তবেই একটা লজিক্যাল উপসংহারে আসা যাবে। সেই হাইপোথিসিসের বেইজ হলো অনুমান (কনজেকচার)। এখন এই অনুমানের ভিত্তি কী হবে সেটাও সাইন্টিফিক মেথডের থিওরিতে স্পষ্ট। একদম ব্ল্যান্ক হিউম্যান মাইন্ড কখনও সম্ভব নয়। মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে এই অনুমান করতে বলা হয়েছে। সুতরাং, এখানে আপনার ‘বিশ্বাস’ ও ‘হাইপোথিসিস’ সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়ে। ‘লজিকের শুরু তাই বিশ্বাস’ কথাটি খাটে না। বরং লজিক ডিরাইভেশনের প্রাথমিক ধাপ অনুমান, যার ভিত্তি মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ইত্যাদি, এভাবে বলাটাই শ্রেয়।

দ্বিতীয়ত: এর পরে হাইপোথিসিসের বিষয়ে আপনি বলেছেন, ‘এ কথা সত্যি যে আমরা কিছু ধরে নিয়ে সেটির ভিত্তিতে অর্থাৎ সেটিকে অভ্রান্ত ধরে নিয়ে অন্যগুলোকে যাচাই করি।’ এখানেও হুড়কোটা লাগিয়ে রেখেছেন। আমরা সর্বদাই ‘নাল হাইপোথিসিস’ টেস্ট করি। ‘নাল হাইপোথিসিস’ বলে, আমরা যা অনুমান করছি সেটা ভুল (অভ্রান্ত নয়)। ‘অল্টারনেটিভ হাইপোথিসিস’ বলে, আমাদের অনুমান সত্যি (অভ্রান্ত)। নালটাকে আমরা টেস্ট করি, তারপর হয় তাকে রিজেক্ট করি, নতুবা গ্রহণ করি। নাল হাইপোথিসিসকে গ্রহণ বা রিজেক্ট করার মাধ্যমেই অল্টারনেটিভ হাইপোথিসিসের বেঁচে যাওয়া বা মৃত্যু ঘটে। সুতরাং, আমাদের অনুমানটিকে অভ্রান্ত নয়, ভ্রান্ত ধরে নিয়ে সেটার রিফিউটেশনের (পপারের ফলসিফিকেশন) মধ্য দিয়ে অন্যটির অস্তিত্ব বিরাজমান হয়।

তৃতীয়ত: দর্শনে আপনার অবস্থানটাও আমি ঠিক ধরতে পারছি না। কখনো আপনি রিয়েলিস্ট, কখনো আইডিয়ালিস্ট, দুটো কন্ট্রাডিক্টরি পজিশন। যেমন এই জায়গায় ‘বাস্তব জগতের’ ইন্ডিপেন্ডেন্ট অবস্থানকে মেনে নিয়ে আপনি পুরো রিয়েলিস্ট– ‘আমার ইন্দ্রিয়সমূহ আমাকে ‘বাস্তব জগত’ সম্পর্কে ‘সত্যিকারভাবে’ সাক্ষ্য দেয় বা বলে। যদিও আমার এ বিশ্বাসের ইন্দ্রিয়-অতিরিক্ত কোনো প্রমাণ আমার নাই, যাকে আমরা সাধারণত স্বজ্ঞা বলি, কাণ্ডজ্ঞান ব্যতিরেকে।’ আবার এই জায়গায় আপনি আইডিয়ালিস্টদের হাত ধরে হাঁটছেন– ‘লজিক্যাল পজিটিভিস্টদের এই দাবির বিরুদ্ধে উত্থাপিত চোখা চোখা সব যুক্তির আলোচনাতে ব্লগের পরিবেশ ভারাক্রান্ত না করে বোদ্ধা পাঠকের জন্য শুধু এটুকু বলা যথেষ্ট হবে যে, সবকিছু পরীক্ষণের আওতায় আসতে হবে– এই বাক্যের পরীক্ষণ কী?’ অথচ এই দুটো পজিশন একই সঙ্গে কন্ট্রাডিক্ট করে।

এখানে শেষ বাক্যে আপনার বলা, ‘সবকিছু পরীক্ষণের আওতায় আসতে হবে– এই বাক্যের পরীক্ষণ কী?’ এটাকে যদি এভাবে না বলে আমি বলি– ‘কোনো কিছুই পরীক্ষণের আওতায় আনতে হবে না।’ তারপর আপনি দেখলেন যে, তুচ্ছ যে কোনো একটি বিষয়ই পরীক্ষণের অভাবে মূল্যায়িত হলো না, তখন আপনি ‘সব বিষয় পরীক্ষণের আওতায় আসতে হবে’ এই বাক্যের পরীক্ষণটা খুঁজে পাবেন কি?

অনেক কথা বলে ফেললাম। সব কথার মূল কথা লজিকের ভিত্তি যাকে বিশ্বাস বলছেন, আমি তাকে ভিত্তি বলি না, আমি বলি একটা ধাপ, সে ধাপের নাম আমার কাছে অনুমান/কনজেকচার।

ধন্যবাদ।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: ভালো কথা, অনুমান বা কনজেকচার। সো, হোয়ার ইট ফ্রম? অর, ইট (কনজেকচার) ওয়াজ/ইজ অলরেডি? আমরা যদি কোনো ‘শুরু’ ধরতে চাই, তাহলে আমাদেরকে এসব প্রশ্নকে এন্টারটেইন করতে হবে। হ্যাঁ, আপনি কোহারেনটিস্ট অবস্থান থেকে বলতে পারেন– কোনো শুরু নাই, সবই আপেক্ষিক। তাহলে অন্তত ‘সবই আপেক্ষিক’ এই বক্তব্যটি আপেক্ষিক নয়। যদি একেও আপেক্ষিক বলেন, তাহলে স্ববিরোধ ঘটে।

একটি শুরু আছে বলে মানুষ ভাবতে পছন্দ করে। নাস্তিকরাও করে। ইতিহাস মানে যার অন্তত শুরু আছে।

কেউ যদি জীবনবাদী তথা ইতিবাচক মনোভাবকে আঁকড়ে ধরতে চায় তাহলে তার এক ধরনের আস্তিক হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নাই।

হ্যাঁ, আমার বিবেচনায় আস্তিকতা সবসময়েই ধর্মাশ্রিত নয়। ধর্ম এক জিনিস আর আস্তিকতা ভিন্ন জিনিস। ধর্ম মানেই ঈশ্বরবিশ্বাস হলে বৌদ্ধ ধর্ম আদৌ কোনো ধর্ম নয়!

যোগাযোগ রাখবেন। টাইপের স্পিড কম হওয়ায় সব কথার রেসপন্স করা গেল না।

স্তব্ধতা‘: “ভালো কথা, অনুমান বা কনজেকচার। সো, হোয়ার ইট ফ্রম? অর, ইট (কনজেকচার) ওয়াজ/ইজ অলরেডি?”

I already explained in my previous comment that a ‘blank human mind is not possible’. Human being grows up with knowledge, education, experience through sensory perception and so on. We use these components as the base for our conjecture. It is you or me or the scientists who is responsible for chose and pick which component is to accept and which to discard. Logic/rationality is the inherent catalytic role player in the entire selection process. Then we measure the conjecture by applying the scientific method as explained before and consequently either we reject our conjecture or accept it based on our findings. Hope you understand what I meant and don’t dilute it with that of theism /atheism debate.

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: প্রতিমন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। কেন জানি আপনার ইংরেজিতে লেখা শেষের কমেন্টটির কিছু অংশ বক্সের বাইরে চলে গেছে। কষ্ট করে আমার মেইলে আবার পাঠাতে পারবেন? ভালো করে পড়তে পারিনি।

পোস্টটির সামহোয়্যারইন লিংক

আপনার মন্তব্য লিখুন

* চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক। আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।