উপাত্ত ও তথ্য প্রসংগে চেতনার উদাহরণ

উপাত্ত ও তথ্য প্রসংগে চেতনার উদাহরণ

  ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ভূমিকা:

ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬ তারিখে “বিজ্ঞানবাদিতার (sciencism) ভুল কোথায়” শিরোনামে যে লেখাটা প্রকাশ করেছিলাম তার শেষাংশে “পাঠকের তেমন আগ্রহ দেখলে “events বা data, information, correlation, causation, reason ও explanation – মধ্যকার অন্তঃসম্পর্ক” নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে” – কথাটা জুড়ে দিয়েছিলাম।

না, দু’এক জন বাদে তেমন কোনো আগ্রহী পাওয়া যায় নাই। জ্ঞানটা যেহেতু উপলব্ধি ও অন্তর্গত প্রেরণার ব্যাপার তাই গর্ভবতী নারীদের অনিবার্য প্রসব বেদনার মতো এ বিষয়ে অতি-সংক্ষেপে হলেও কিছু আলোচনা করার জন্য আমার খুব ইচ্ছা করছে।

অগত্যা …..

মানুষ-জনকে এনলাইটেন্ড করার জন্য যে লিখি, ঠিক তা নয়। বরং নিজের উপলব্ধিকে শেয়ার করার জন্য লিখি। এতে কিছুটা আত্মপ্রকাশের ব্যাপার আছে। নিজেকে তুলে ধরার মধ্যে লাভ ছাড়া ক্ষতি নাই যদি তা হয় অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি, বুদ্ধি, যুক্তি ও ভাবনা-চিন্তার বিষয়।

এ বিষয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের লেখার এটি সার সংক্ষেপ তুল্য।

১. উপাত্ত ও তথ্য প্রসংগে চেতনার উদাহরণ –

উপাত্ত (data), তথ্য (information), ঘটনার মিল (correlation), অনিবার্য কার্যকারণ সম্পর্ক (causality), কারণ (reason) ও ব্যাখ্যার (explanation) মধ্যকার অন্তঃসম্পর্ক সম্পর্কে স্বচ্ছ ও সম্যক ধারণা থাকা জরুরী। জ্ঞানতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে এর প্রত্যেকটিই জ্ঞান। একটা উল্টা পিরামিডের মতো এগুলোর অন্তঃসম্পর্ক।

উপাত্ত থেকে আমরা তথ্য বের করি। উপাত্ত বেশি হলে তথ্যও বেশি হবে এমন নয়। একই উপাত্ত হতে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য নির্ণয় করা সম্ভব। দৃষ্টিভংগী ও মানদণ্ডের পার্থক্যের কারণে এটি হতে পারে। উপাত্ত দিয়েই জ্ঞান শুরু।

অভিজ্ঞতাবাদীদের মতে, নিরেট উপাত্ত হতে যেহেতু জ্ঞান শুরু এবং উপাত্তটা আমরা অভিজ্ঞতা হতে পাই, তাই অভিজ্ঞতাই সব জ্ঞানের ভিত্তি।

বুদ্ধিবাদীদের মতে, ভূতটা সরিষার মধেই রয়ে গেছে। তাই, ওই সরিষা পড়া দিয়ে ভূত তাড়ানো অসম্ভব।

অর্থাৎ, ‘অভিজ্ঞতা’টা অভিজ্ঞতা হয়ে উঠে, ‘উপাত্ত’গুলো যেভাবে শেষ পর্যন্ত উপাত্ত হয়ে উঠে তার মধ্যেই বুদ্ধির তেলিসমাতি রয়ে গেছে। তাদের কথা হলো, শারীরিক বৈশিষ্ট্য (sense perception) আর চেতনা (consciousness) যখন বাহ্যিক জগতের সাথে কাজ-কারবার (interaction) করে তখন ‘অভিজ্ঞতা’, ‘উপাত্ত’ এগুলো ভেসে উঠে। এ টুকু ঠিকই আছে। কিন্তু নিছক শারীরিক বৈশিষ্ট্য আর চেতনা মিলে অভিজ্ঞতা তৈরী করে না। এর সাথে জ্ঞানের আকারগুলোও কাজ করে।

অভিজ্ঞতা দিয়ে যদি জ্ঞানের আকার পাওয়া যায়, তাহলে অভিজ্ঞতা কীভাবে পাওয়া যায়? এর উত্তরে যদি বলা হয়, বাহ্যিক জগত থেকে, তাহলে তা ভুল হবে। কেননা, বাহ্যিক জগত তো জানা যায় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। এবং, ‘অভিজ্ঞতা’, অভিজ্ঞতা হয়ে উঠে না, যদি চেতনা কোনো না কোনোভাবে ইতোমধ্যে হাজির না থাকে।

তো, এই (প্রাথমিক) চেতনা কোত্থেকে আসলো? কেন আসলো? এই প্রশ্নগুলোর অভিজ্ঞতাবাদী উত্তর নাই। তারা বড়জোর কীভাবে চেতনার উন্মেষ তা সম্পর্কে একটা সাদামাটা শরীর বৃত্তীয় বর্ণনা দিতে পারে। আগেই আলোচনা করেছি, কেন ধরনের প্রশ্নকে কীভাবে ধরনে উত্তর দেয়ার নাম বিজ্ঞানবাদিতা (sciencism)। ধর্ম ব্যবস্থার মতো এটিও এক প্রকারের বিশ্বাস ব্যবস্থা।

তাই, আসুন, বিজ্ঞানধর্মের খোলস হতে বের হয়ে এসে মুক্ত দার্শনিক যুক্তি দিয়ে আমরা চেতনার উৎপত্তিগত সমস্যাকে মোকাবিলা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *