বিজ্ঞানবাদিতার (sciencism) ভুল কোথায়?

বিজ্ঞান ও দর্শনের পদ্ধতিগত মৌলিক পার্থক্যকে বিজ্ঞানবাদীরা গুলিয়ে ফেলেন।

বস্তুবাদ, ভাববাদ, প্রকৃতিবাদ ও অপ্রকৃতিবাদের মতো হাজারো তত্ত্ব, মত, পথ ও (মত)বাদের মতো বিজ্ঞানবাদও একটা (মত)বাদ বটে।

বিজ্ঞানবাদীরা মনে করেন, মানব জ্ঞান মানেই বিজ্ঞান। বিজ্ঞানই সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারে। হয়তো পেরেছে, নয়তো পারবে।

যেসব প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞান দিতে পারার কোনো সম্ভাবনা নাই, তাদের দৃষ্টিতে সেসব হলো ভুল প্রশ্ন। অর্থাৎ ব্যাকরণগতভাবে সঠিক প্রশ্ন হলেও আদতে সেগুলো অর্থহীন প্রশ্ন।

মোটাদাগে, যে কোনো ধরনের why questionকে তারা অবান্তর প্রশ্ন মনে করে। যেমন, ‘নীল রংয়ের ঘ্রাণ কী?’ – একটা অর্থহীন প্রশ্ন। হোয়াই ফরমেটের কোয়েশ্চনগুলোকে তারা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে। অগত্যা তারা হোয়াই প্রশ্নকে how it works, এক কথায় পদ্ধতিগত বর্ণনা দিয়ে ‘উত্তর’ দিতে চায়। যেটি আদতে begging the question ফ্যালাসি বা অনুপপত্তি।

বৈজ্ঞানিক (scientist) হওয়া আর বিজ্ঞানবাদী (sciencist) হওয়া আলাদা ব্যাপার। বিজ্ঞানকে দিয়ে যারা দার্শনিক সমস্যা মোকাবিলা করেন তারা বিজ্ঞানের অপব্যবহার করেন। এবং দর্শনকে অবমূল্যায়ন করেন। এসব বিজ্ঞানবাদী দার্শনিকদের তাই আপনারা বলতে পারেন, কলাবরেটর ফিলোসফার বা দার্শনিক রাজাকার।

পাঠকের তেমন আগ্রহ দেখলে “events বা data, information, correlation, causation, reason ও explanation – মধ্যকার অন্তঃসম্পর্ক” নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে।

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Ahm Mahmud: স্যার, চিন্তা এবং চেতনা সম্পর্কে একটা লিখা লিখলে ভালো হতো।

Mohammad Mozammel Hoque: চিন্তা হলো চেতনার ফসল। চেতনা হলো মৌলিক। যা মৌলিক, তা কেন মৌলিক তা নিয়ে প্রশ্ন করা চলে না। মৌলিককে শুধু গ্রহণ করে নিতে হয়। দর্শন ডটকম হতে “চেতনার হার্ড প্রবলেম প্রসঙ্গে ডেভিড শালমার্স” লেখাটা পড়লে এ বিষয়ে আরো ধারণা পাওয়া যাবে।

Ahm Mahmud: thank you sir

Gazi Nurul Ahad: আমার ছোট মাথায় যা বুঝি তা হলো– দর্শন মানুষকে ভাবালুতায় আবিষ্ট করে, ভাববাদে মজিয়ে দেয়; আর বিজ্ঞান মানুষকে চরম প্রমাণবাদী প্রাণীতে পরিণত করে। এ দুটোর ব্যাপারে ইসলামের ভারসাম্য নীতি কী? প্রশ্ন যদি অযৌক্তিক বা অপ্রাসঙ্গিক হয় তা আমার বোধের অক্ষমতা, তবুও জানতে চাইলাম, স্যার।

Mohammad Mozammel Hoque: দুনিয়া, আমরা, এসব কিছু কোত্থেকে এসেছে? এই প্রশ্নটা হলো ফিলোসফির মূল শাখা অধিবিদ্যার প্রধানতম প্রশ্ন। আল্লাহ এ দুনিয়া বানাইছেন – এই ধারার উত্তর হলো ইসলাম নামক বিশ্বাস ও কর্মব্যবস্থার মূল কথা। তাহলে দেখুন, ইসলাম আর ফিলোসফি একই জিনিস। যা কিছু বিরোধ, তা বুঝার ভুল।

ফিলোসফি কোনো বিষয়ে সব অপশনগুলোর সুবিধা-অসুবিধা, যুক্তি-পাল্টাযুক্তিকে তুলে ধরে। উদাহরণ হিসাবে বললে, আস্তিকতা, নাস্তিকতা, সংশয়বাদ-অজ্ঞেয়তাবাদ ও মুক্তচিন্তা – এই সবই ফিলোসফি। অর্থাৎ, ফিলোসফিতে আপনি এর প্রত্যেকটির পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি পাবেন। দিন শেষে আপনাকেই বেছে নিতে হবে, কোনটি আপনার কাছে অধিকতর বা একমাত্র গ্রহনযোগ্য হিসাবে মনে হচ্ছে।

আস্তিকতা যদি ফিলোসফির অন্যতম বিকল্প হয়, তখন তাওহীদ ধারণা তথা ইসলাম কীভাবে ফিলোসফির বাইরের হয়, আপনিই বলুন। ফিলোসফি হলো সাধারণ প্রস্তাবনা। বিশেষ কোনো পজিশন হলো আউটকাম অব ফিলোসফিক্যাল আর্গুমেন্টেশান। তাই না?

দর্শন মানুষকে ভাবালুতায় আবিষ্ট করে – এ কথাটা হলো ‘ধর্ম মানুষকে নেশার মতো বিভ্রান্ত করে’ – কথাটার মতো একদেশদর্শী, অতিরঞ্জিত ও অসত্য কথা। বর্তমান পাশ্চাত্য দর্শন মোটাদাগে ভাববাদ, আপনার ভাষায় ভাবালুতার বিরোধী।

বিজ্ঞান মানুষকে ‘প্রমাণবাদী’ বানায় না। আমি বিজ্ঞান পড়েছি। ইন্টার পর্যন্ত। আমরা জানি, বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করে। যতটা সম্ভব। সম্ভাব্য সব উপায়ে সে প্রমাণ খোঁজে। এতে সমস্যার কিছু নাই। আপনি-আমিও তো যেসব বিষয়ে ‘প্রমাণ’ পাওয়া সম্ভব সেসব বিষয়ে উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কোনো কিছুকে গ্রহণ করি না। তাতে করে আপনাকে-আমাকে কি ‘প্রমাণবাদী’ বলা সংগত হবে?

“কথা বলতে দিতে হবে। চাই, প্রশ্ন করার অধিকার” – এ ধরনের কথাকে যিনি তার ওয়ালের কভার ফটো বানাইছেন, তাকে প্রশ্ন করার ব্যাপারে এতো দ্বিধা-সংকোচ কেন? হতে পারে এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ডমিন্যান্ট নতমুখী গুরুবাদী শিক্ষা পদ্ধতির আউটকাম। আমি এটি সমর্থন করি না।

আমার দর্শন ডটকম সাইটে এই বিষয়ে আরো লেখা পাবেন। ভালো থাকুন। প্রতিউত্তর দিতে দেরী হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করছি।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

বিজ্ঞানবাদিতার (sciencism) ভুল কোথায়?” শিরোনামের পোস্টটিতে ২টি মন্তব্য

  1. পাঠকের তেমন আগ্রহ দেখলে “events বা data, information, correlation, causation, reason ও explanation – মধ্যকার অন্তঃসম্পর্ক” নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে।

    আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি,তাড়াতাড়ি দেন!

  2. পাঠকের তেমন আগ্রহ দেখলে “events বা data, information, correlation, causation, reason ও explanation – মধ্যকার অন্তঃসম্পর্ক” নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে।

    আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি,তাড়াতাড়ি দেন!

আপনার মন্তব্য লিখুন

* চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক। আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।