জীবন ও জগত সম্পর্কিত কোনো বিষয় ফিলোসফির বাইরে হতে পারে না

জীবন ও জগত সম্পর্কিত কোনো বিষয় ফিলোসফির বাইরে হতে পারে না। ইসলাম হলো ফিলোসফির একটিমাত্র আউটকাম বা প্রাপ্তি। ইসলাম ছাড়াও অপরাপর মত, পথ ও তত্ত্বসমূহ ফিলোসফির দৃষ্টিতে সমানভাবে যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য।

যদিও আমার মতো আরো অনেকের দৃষ্টিতে ইসলামই হচ্ছে জীবন ও জগতের মৌলিক প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর ও সমাধান।

ফিলোসফির দুটি দিক:

(১) জীবন ও জগতের মৌলিক প্রশ্নগুলোকে যুক্তি দিয়ে ডিল বা মোকাবেলা করার পদ্ধতি।

(২) জীবন ও জগতের মৌলিক প্রশ্নগুলো উন্মুক্ত যুক্তিভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে বিশেষ কোনো সমাধানে উপনীত হওয়া।

এর প্রথমটি হচ্ছে ফিলোসফির মূল জায়গা। যুক্তির গঠনকাঠামো, যাকে আমরা বিবেক-বুদ্ধি হিসেবে বলি, তা সবার জন্যই সমান। খোদা বা প্রকৃতি প্রদত্ত। যদিও সবাই এটিকে সমানভাবে কাজে লাগায় না।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে এর পরিণতি বা আউটকাম। যুক্তিকে যে যেভাবে কাজে লাগায় সে সে ধরনেরই এক্সপেক্টেড আউটকাম বা পরিণতিতে পৌঁছায়।

ইসলাম ছাড়াও জীবন ও জগতের মৌলিক প্রশ্নগুলোর যুক্তিসঙ্গত উত্তর আরো অনেক কিছু হতে পারে। যেগুলো হলো ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী মতাদর্শ।

মূলত সমান হওয়া সত্ত্বেও সব যুক্তি সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হয় না। তাই প্রত্যেকে একই ফিলোসফিক্যাল ওয়েতে তথা একই ধরনের যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতিতে বিচার বিবেচনা করার পরও যার যার দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে আমরা এক একটি বিশেষ মত, পথ ও তত্ত্বকে অপরটি তুলনায় প্রাধান্য দিয়ে থাকি। অবশেষে সেটাকেই একমাত্র সঠিক বলে গ্রহণ করি। নিজের কাছে গ্রহণযোগ্য যুক্তিকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করি।

ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা ও দৃষ্টিভঙ্গি হতে প্রয়োগের কারণে একই যুক্তিপদ্ধতির ফলাফল বিভিন্ন রকমের হওয়াটা আমাদের জীবনবোধ তথা meta-theory or paradigm of life-এর উপর নির্ভর করে।

উপরের এ কথাগুলো বলেছি, “যুক্তির বাইরে কিছু নয়, বুদ্ধির অনুকূলে আমরা সর্বদা– কথাটির মানে কী?” শিরোনামে আমার একটি সাম্প্রতিক পোস্টে একজন সম্মানিত পাঠকের মন্তব্যের জবাবে।

উক্ত পাঠকের মন্তব্যটি হলো:

“ইসলামের সবকিছু যে ফিলোসফিভিত্তিক হতে হবে, তা কিন্তু নয়। বরং ইতিহাস সাক্ষী, যখনই কেউ ইসলামের কোনোকিছু ফিলোসফির সাহায্যে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে, বিশেষ করে আল্লাহর সীফাত সংক্রান্ত বিষয়গুলো, সেক্ষেত্রে সালাফদের নীতি থেকে সরে এসেছে। আর, ইসলামের প্রতিটি শাখা ব্যাপক। সুতরাং, এর স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে হলে ব্যাপক পড়াশোনা প্রয়োজন। যেমন প্রয়োজন একজন মানুষকে ফিলোসফি নিয়ে কথা বলতে হলে।”

লেখাটির ফেসবুক লিংক

    আপনার মন্তব্য লিখুন

    * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক। আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।